সিলেটটুডে ডেস্ক

১১ জুন, ২০১৬ ২১:৪৯

তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট চুড়ান্ত, রোববার হস্তান্তর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট চুড়ান্ত করেছে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ড।

রবিবার সকালে রিপোর্টটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। শনিবার বিকেলে ফরেনসিক ও মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. কামদাপ্রসাদ সাহা (কেপি সাহা)  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরো জানান, গত বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল বোর্ডের সভায় প্রতিবেদন চুড়ান্ত করার পর ওইদিনই তা একটি প্যাকেটে সিলগালা করা হয়।

এ প্রতিবেদনে কি আছে? এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে কেপি সাহা বলেন, ‘রিপোর্ট প্রস্তুত, রবিবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকুন।

এদিকে, তনু হত্যা ‘পরিকল্পিত ও নিশ্চিত হত্যাকাণ্ডের শিকার এবং ঘাতকরা তার পরিচিত’- এ বিষয়ে সিআইডি নিশ্চিত হলেও ঘাতকদের গ্রেপ্তারে সিআইডির কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লার সিআইডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে সন্দেহভাজনদের মোবাইল কললিস্ট, তনুর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষ্য-প্রমাণে সন্দেহভাজনদের একটি হিট লিস্ট তৈরি হলেও এখনই এদের আটকে কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। ঘাতকদের শনাক্তে সর্বাধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তির সহায়তা নিতে যাচ্ছে সিআইডি। এক্ষেত্রে সিআইডি যে কোনো সময়ই আদালতের অনুমতি নিয়ে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করতে চাচ্ছে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র আরো জানায়, তাদের পদক্ষেপ ধীরচলা নীতিতে হলেও চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সকল তথ্য-উপাত্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদনে ঘাতক নিশ্চিত হওয়ার আগে কাউকে গ্রেপ্তারের ঝুঁকিতে পা দেবে না সিআইডি।

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লায় একটি ঝোপ থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ ও ডিবি হয়ে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপরে ডিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ তনুর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর ৪ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত