১৩ জুন, ২০১৬ ২২:৪২
ছেলের বউয়ের উপর রাগ করে গত ২১ মে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছিলেন বৃদ্ধা। ভিজে জবুথবু অবস্থায় ঘুরছিলেন নগরীর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিলেন। নগরীর দাড়িয়াপাড়ার এক গৃহিনী তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন নিজের বাসায়। সেখান থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেফহোমে। অতঃপর প্রায় ২২ দিন পর সোমবার নিজের বড় ছেলের বাসায় ফিরলেন শতবর্ষী বৃদ্ধা রহিমা খাতুন (১০১।
সোমবার বেলা ৩টায় রহিমা খাতুনের বড় ছেলে আব্দুস সালাম ও নাতি মো. আল আমিনের কাছে তাকে তুলে দেন সিলেট সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ। এরপর সুবিদবাজারের কলাপাড়ায় নিজ বাসায় মাকে নিয়ে যান আব্দুস সালাম।
ছেলের বউয়ের উপর রাগ গত ২১ মে ঝড়ের মধ্যে রহিমা খাতুনের বাসা থেকে বেরিয়া আসা নিয়ে ওইদিনই সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ ‘ছেলের বউ মারে’, তাই বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বৃদ্ধা শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সেসময় বৃদ্ধা অভিযোগ করেন,- ছেলের বউ মারধর করে। ছেলেও ভালো করে কথা বলে না। সকালে ছেলে কাজে যাওয়ার পর বউ আমাকে বাইরে বের করে ঘর তালাবন্ধ করে বাইরে চলে যায়। তাই অভিমানে বাসা থেকে চলে আসেন তিনি।
তারপর বৃষ্টির মধ্যেই দিনভর হাঁটতে থাকেন নগরীর সড়কে। ওইদিন বিকেলে ঝড় আর বৃষ্টির মধ্যে নগরীর দাঁড়িয়াপাড়া এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটছিলেন এই বৃদ্ধা। সন্ধ্যার দিকে দাঁড়িয়াপাড়া এলাকার গৃহবধূ রুমা আক্তার সুরমা ভিজে জবুথবু অবস্থায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার নিজের বাসায় নিয়ে যান।
নিজের নাম বলতে পারেন না বৃদ্ধা। নাম জিজ্ঞেস করলে বলেন, 'সবাই আমায় মধুর মা বলে ডাকে'। নিজের বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মনতলা, নয়নপুর গ্রামে বলে জানিয়েছিলেন এই বৃদ্ধা। মাসখানেক আগে সিলেটে ছেলের বাসায় এসেছিলেন। তবে ছেলের বাসা নগরীর কোথায় তা জানাতে পারেননি বৃদ্ধা।
সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, সিলেটটুডেতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই বৃদ্ধার বড় ছেলেকে খোঁজে বের করা হয়। আজ (সোমবার) ছেলের হাতে তাকে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন সুবিদবাজারে ছেলের বাসায় আছেন।
আপনার মন্তব্য