২৮ জুলাই, ২০১৬ ১৭:৩৩
রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অবৈধ স্থাপনা না সরাতে আন্দোলনে নেমেছে কলেজটির শিক্ষার্থীদের একাংশ।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) সিলেট প্রেসক্লাব ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান অবস্থান থেকে মেডিকেল কলেজটি না সরাতে দাবি জানানো হয়। যদিও ছয় মাস আগেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত শিল্পপতি রাগীব আলীর দখল করা তারাপুর চা-বাগান ধ্বংস করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এই প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের একাংশ বলেন, "এই রায়ের ফলে আমাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে আমরা চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি"।
আরও পড়ুন- তারাপুর চা বাগান ছাড়তে রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজকে নোটিশ
কলেজ কর্তৃপক্ষই অবৈধ ভবন রক্ষায় কৌশলে শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
আদালত স্থাপনা সরাতে ছয় মাস সময় দিলেও এই সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরাতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন উদ্যোগ নেয়নি জানতে চাইলে তারা বলেন, "আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কথা জানি না, আমরা মানবিক দিক আমাদের শিক্ষাজীবন নিয়েই উদ্বিগ্ন"।
উপস্থিত সাংবাদিকরা জানতে চান, সর্বোচ্চ আদালত রায়েই বলে দেয়া আছে আপনাদের শিক্ষাজীবন যাতে ক্ষতি না হয় তা দেখবে কলেজ কর্তৃপক্ষ সেজন্য তাদের ছয় মাস সময়ও দেয়া হয়েছিল। আপনারা কি কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন?- এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি তারা।
বর্তমানে নার্সিং কলেজসহ ১৫৫০ জন শিক্ষার্থী এই কলেজে অধ্যয়নরত থাকলেও বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গুটিকয়েক শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস (১৮তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান।
তিনি বলেন- কলেজ ক্যাম্পাস বর্তমান জায়গায় বহালের দাবিতে তারা মৌন মিছিল করেছেন, পরবর্তী তারা আরও আন্দোলন কর্মসূচি দিবেন বলেও জানান।
আরও পড়ুন- পঙ্কজ গুপ্তকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন রাগীব আলী
দেবোত্তোর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের ৭ লক্ষ ৯৩ হাজার বর্গফুট জায়গার মধ্যে গড়ে ওঠেছে এই কলেজ। এতে রয়েছে দুটি ১০ তলা ভবন। যা পুরোটাই গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে দখল করা চা-বাগানের ভূমিতে। তারাপুর চা বাগান দখল করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ৩৩৭ টি স্থাপনা গড়ে ওঠেছে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের আপীল বিভাগ তারাপুর চা বাগান শিল্পপতি রাগীব আলীর দখল থেকে উদ্ধারের রায় দেন। এছাড়া তারাপুর চা বাগানে নির্মিত সব অবকাঠামো ৬ মাসের মধ্যে অপসারণ করে সে জায়গায় চা বাগান করার আদেশ দেন আপীল বিভাগ। রাগীব আলী গং অবকাঠামো অপসারণে করতে ব্যর্থ হলে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সহায়তা নিয়ে স্থাপনা অপসারণের কথাও উল্লেখ করা হয় রায়ে। তবে এ খাতে ব্যয় হওয়া অর্থ জেলা প্রশাসক রিট আবেদনকারীদের (রাগীব আলীর ছেলে) কাছ থেকে গ্রহণ করবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
গত ১৫ মে এই বাগানের ৪২২.৯৬ একর জায়গার মধ্যে স্থাপনা ছাড়া ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
তবে সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখলকৃত চা বাগানের আংশিক জায়গা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও তাকে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র এখনো দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯১৫ সালের ২ জুলাই তারাপুর চা বাগানের তৎকালীণ মালিক বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ জিউ দেবতার নামে বাগানটি উৎসর্গ করেন। তখন থেকেই ৪২২.৯৬ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা তারাপুর বাগানটি পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্তের পর তাঁর ছেলে রাজেন্দ্র গুপ্ত এই দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত হন। ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাগানটি ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাজেন্দ্র গুপ্ত ও তাঁর তিন ছেলে শহীদ হন। তাঁর তিন মেয়ে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে পাক সেনারা।
পরবর্তীকালে পঙ্কজ কুমার গুপ্ত ভারত চলে গেলে ১৯৯০ সালে বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী। আদালতের রায়ে এই দখলকে প্রতারণামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আপনার মন্তব্য