২১ আগস্ট, ২০১৭ ২২:২৬
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে রোববার নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে মণিপুরী ভাষা দিবস। এ উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার।
সংস্থার সভাপতি কবি এ কে শেরামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম , বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, জুড়ী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রনজিতা শর্মা, আদমপুর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দাল হোসেন, মণিপুরী কালচারেল কমপ্লেক্সের আহ্বায়ক এল. জয়ন্ত কুমার সিংহ, আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার কে. মনীন্দ্র সিংহ, বিশিষ্ট লেখক ও সংগঠক এবং সমুজ্জ্বল সুবাতাস-এর সম্পাদক চৌধুরী বাবুল বড়ুয়া।
সাজ্জাদুল হক স্বপন এবং অয়েকপম অঞ্জুর সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এল. শ্যামল সিংহ ইবুংহাল।
অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন থোঙাম কুঞ্জেশ্বর, কন্থৌজম শিল্পী, অহৈবম রনজিৎ ও আমেরিকা প্রবাসী সুনীল সিংহ।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও মণিপুরী ভাষার মতো সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের একটি উন্নত ভাষাকে দ্রুত সাংবিধানিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে মণিপুরী ভাষা ভিন্ন নাম-পরিচয়ে উপস্থাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়েই মণিপুরী ভাষাকে তার প্রকৃত পরিচয়ে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কানাডা প্রবাসী মণিপুরীদের সংগঠন ‘ম্যাক’-এর পক্ষ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ তিনজন কৃতী শিক্ষার্থীকে ‘ম্যাক একাডেমিক এওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এবার যারা এওয়ার্ড পেয়েছেন, তারা হলেন- ১ম স্থান অধিকারী মো. সফিউল ইসলাম, ২য় স্থান অধিকারী নির্জন সিংহ ও ৩য় স্থান অধিকারী সঞ্চিতা দেবী।
এছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ম্যাক এওয়ার্ডের জন্য আবেদনকারী অপর ১০ জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী দিয়ে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে মণিপুরী ভাষা দিবস ২০১৭ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সাংস্কৃতিকপর্বে কিরেন সিনহা কেয়া ব্যবস্থাপনায় ‘মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স’র শিক্ষার্থীরা নৃত্য পরিবেশন করে।
উল্লেখ্য, মণিপুরী জাতির মাতৃভাষার নাম ‘মণিপুরী ভাষা’। মণিপুরী জাতির মূলভূমি ভারতের অন্যতম রাজ্য মণিপুরের রাজ্যভাষা এই মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্যের রয়েছে কয়েক হাজার বৎসরের সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
ভারতে মণিপুরী ভাষাভাষীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট ভারত সরকার সংবিধানের অষ্টম তপশীলে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মণিপুরী ভাষাকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাই সারা বিশ্বের মণিপুরী ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী এই দিনটিকে ‘মণিপুরী ভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে।
আপনার মন্তব্য