নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ আগস্ট, ২০১৭ ০১:১৮

‘বৃক্ষের ভাগ্যকে ঈর্ষা করি’: বৃক্ষমেলায় হরেক বৃক্ষ, অগণন মানুষ

বৃক্ষের ভাগ্যকে ঈর্ষা করি।
নিজের বেদনা থেকে নিজেই ফোটায় পুষ্পদল।
নিজের কস্তুরী গন্ধে নিজেই বিহ্বল।
বিদীর্ণ বল্কলে বাজে বসন্তের বাঁশরী বারংবার
আত্মজ কুসুমগুলি সহস্র চুম্বনচিহ্নে অলংকৃত করে ওষ্ঠতল

                                                পূর্ণেন্দু পত্রী

সেই চুম্বনচিহ্নের অবতারণাই হয়েছে সিলেটের বৃক্ষমেলায়।

সারি সারি ফুল, ফল, ঔষধি, ভেসজ গাছের চারার চুম্বন দৃশ্য অবলোকন করতেই যেন প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন বৃক্ষপ্রেমীরা। পরিবার পরিজন নিয়ে আসছেন অনেকে। কেউ আসছেন কিনতে আবার কেউ আসছেন ঘুরতে। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলেই বেশি ভিড় জমান বৃক্ষপ্রেমীরা।

পরিচিত ফুল, ফল, ঔষধি, ভেষজ বৃক্ষের সাথে এবারের মেলাতে যুক্ত হয়েছে বিরল প্রজাতির কুসুম, সোরসপ (ক্যান্সার কিলার), ডায়াবেটিক নামের ঔষধি বৃক্ষ, এক গাছে তিন ফুল ধারণের ক্ষমতা সম্পন্ন থাই বেলি, মানুষের হাতের আঙুল সাদৃশ্য ফিঙ্গার লেবু, ইংল্যান্ড আপেল, করমচা, রানবুটাম সহ পাঁচ প্রজাতির বনসাই বৃক্ষ। আর এসব বিরল প্রজাতির গাছগুলোর প্রতিই মানুষের আগ্রহ বেশি।

গত (১০ আগস্ট) সিলেটের সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বন বিভাগ সিলেট আয়োজন করেছে বৃক্ষমেলা। আয়োজক সূত্রে আরও জানা যায় বৃক্ষমেলা চলবে আগামী ২৯ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত।

মেলার তথ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সিলেট বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা (টাউন) দেলোয়ার রহমান জানান, সিলেট বন বিভাগ, বিএডিসি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ছাড়া মোট ২২টি নার্সারি এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। তিনি আরও জানান, মোট ৪৬টি স্টল নিয়ে চলমান এই মেলায় প্রায় চার শতাধিক প্রজাতির চারার সমাগম ঘটেছে।

মেলা তথ্য কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী (২৪ আগস্ট) বুধবার পর্যন্ত বিক্রির পরিমাণ ছিল মোট ত্রিশ লক্ষ দশ হাজার আট শত পঁয়ত্রিশ টাকা এবং চারা বিক্রি হয়েছে ছেষট্টি হাজার তিন শত তিনটি।

শুক্রবার বিকেলে সিলেটের সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বৃক্ষমেলায় ভিড় জমাচ্ছেন বৃক্ষপ্রেমীরা। তরুণ তরুণী সহ শিশুরাও আসছেন অভিভাবকদের সাথে। কেউ বিভিন্ন প্রজাতির চারা দাম করছেন, কেউ কিনছেন, আবার কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছেন দেখতে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের আনাগোনাই বেশি লক্ষ করা গেছে বৃক্ষমেলায়।

এসময় কথা হয় গোয়াইনঘাট বহর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রাজিয়া আক্তারের সাথে। রাজিয়া আক্তার বলেন, আসলে বৃক্ষমেলায় যে শুধু কেনার জন্য আসবো তা না। বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের সাথে নতুন করে পরিচিত হওয়ায় এক সুবর্ণ সুযোগ হচ্ছে বৃক্ষমেলা। তাই আমার নাতি রাহাতকে সাথে নিয়ে এসেছি। ইচ্ছা একটি ডায়াবেটিক গাছের চারা কিনবো। সেই সাথে আমার নাতিকে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের সাথে পরিচিত করাবো।

একই সময় মেলায় আসা নগরীর উপশহর এলাকার কাওসার আহমদ নামের একজন বলেন, বর্তমান প্রজন্ম যারা আছে তারা অনেকেই অনেক বৃক্ষের নাম জানে না। তাই এসব মেলার মাধ্যমে তাদেরকে বৃক্ষের সাথে পরিচিত করার একটি সুযোগ হয়। এজন্য আমি আমার ছেলে মেয়েকে নিয়ে এসেছি। তাদেরকে বিভিন্ন রকম গাছের সাথে পরিচিত করাবো।

মেলায় অংশ নেওয়া "সিলেট নার্সারি'র" পরিচালক জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বিক্রির পরিমাণ বেশি। মেলায় মানুষজনও বেশি আছেন। কি ধরণের গাছের চারার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ফুল, ফল এবং ঔষধি গাছের চারার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। এগুলো বিক্রির পরিমাণও বেশি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত