শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ

০৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১৩

কলেজের পরীক্ষা, তাই বছরের অর্ধেক সময়ই বন্ধ থাকে বিদ্যালয়ের পাঠদান

হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

দুপুর সাড়ে বারোটার সময় ছুটি হয়ে গেছে হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী রুখসানার কাছ থেকে জানা গেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে শ্রেণীকক্ষে তাই স্কুল ছুটি হয়ে গেছে।

দুর্গাপূজা, মহররমের র্দীঘ ছুটির পর শনিবার (৭অক্টোবর) মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস শুরু হয়। তবে ছুটির পর প্রথম দিন স্কুলে উপস্থিত হয়েও পূর্ণ দিবস ক্লাস করতে পারেনি হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, স্কুল অর্ধ দিবস ছুটি বা পূর্ণ দিবস বন্ধ এটি নতুন কিছু না। বছরের প্রায় ছয়মাস বিভিন্ন মেয়াদে স্কুলে বন্ধ রাখতে হয় কলেজের শিক্ষার্থীদের এইচএসসি, ডিগ্রি, অর্নাস, মাস্টার্স  পরীক্ষার জন্য।
চলমান অর্নাস পরিক্ষার জন্য আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য স্কুলের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষাও বিঘ্নিত হবে বলে জানিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারী ছুটি থাকে ৮৫ দিন। এর সাথে পরীক্ষার কেন্দ্র দেয়ায় প্রায় ৭০ দিন স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। এর মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পরীক্ষা চলে প্রায় ৪২ দিন। এছাড়াও প্রাকৃতিক দূর্যোগ সহ বিভিন্ন কারনে আরো ৭ দিন স্কুল বন্ধ থাকে। এই হিসাব অনুযায়ী সারা বছরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার সুযোগ পায় মাত্র ১৬১ দিন।

সরকারের নিয়মানুযায়ী এক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা অন্য প্রতিষ্ঠানে নিতে হয়। এই নিয়মের জন্য বৃন্দাবন সরকারী কলেজ, শচিন্দ্র ডিগ্রি কলেজ সহ সদর উপজেলার  কাছাকাছি অনন্য উপজেলার কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে হবিগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজ।

হবিগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজ সূত্রে জানা যায়, মহিলা কলেজে আসন সংখ্য ৯০০ টি। কিন্তু পরীক্ষার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে ৮০০ থেকে ২৪০০ শিক্ষার্থীর আসনের ব্যবস্থা করতে হয়। যার জন্য নিয়মানুযায়ী কলেজের আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আসনের ব্যবস্থা করতে হয়।  

হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ রোকেয়া খানম বলেন, র্দীঘ ছুটির পর আজ (শনিবার) স্কুল খোলা হয়েছে। অর্নাস পরীক্ষার জন্য বাধ্য স্কুল ছুটি দিতে হয়েছে। স্কুলের সুবিধা-অসুবিধা না জেনেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আদেশপত্র স্কুলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, মূল কেন্দ্রের পাশ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের বিদ্যলয়। এটা কি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অপরাদ? এই জন্য কি আমাদের বিদ্যালয়কে দিনের পর দিন এই সমস্যা সহ্য করতে হবে?  বেশিরভাগ সময়ই কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের বিদ্যালয়ের ২ টি রুম ব্যবহার করেন পরীক্ষার জন্য। এই ২ রুম ব্যবহারের জন্যও আমাদেরকে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে হয়।

প্রধান শিক্ষিকা আরো বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্র দিতে আমরা আগ্রহী, তাই বলে আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে নয়। নিয়মিত ক্লাস না নিতে পাড়ায় অনেক দিন যাবত আমাদের স্কুলের এসএসসির রেজাল্ট খারপ হচ্ছে। এই স্কুলের ছাত্রীরা বেশিরভাগই নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। যার জন্য বাড়িতে শিক্ষক রেখে পড়ার সামর্থ নেই তাদের। তারা যা শিখে ক্লাস থেকেই শিখে। এখন সব কিছু মিলিয়ে যদি বছরের অর্ধেক সময়ই আমরা ক্লাস না করাতে পারি তাহলে ছাত্রীরা শিখবে কিভাবে, আর ভাল রেজাল্টই কিভাবে করবে।
 
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে দৃষ্টি আর্কষন করে তিনি বলেন, মহিলা কলেজের আসে পাশে আরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সেগুলো নজরে এনে পরীক্ষার কেন্দ্রের জন্য ভেন্যু বন্টনে পরিকল্পিত ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর তাদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।   

হবিগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ নজমুল হক বলেন,  নিয়মানুযায়ী এক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা অন্য প্রতিষ্ঠানে নিতে হয়। আমাদের এখানে আসা পরীক্ষার্থীর চেয়ে আসন সংখ্যা কম তাই কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সুবির্ধাতে পাশ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে হয়। এক্ষেত্রে নিকটবর্তী হওয়ায় হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবহার বেশি করা হয়। এই বিদ্যালয় ছাড়াও আমরা হবিগঞ্জ হাইস্কুল এন্ড কলেজ, পিটিআই স্কুলও ব্যবহার করি। আমাদের আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের ব্যবহার করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়াতে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষা কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে। দেখা যায় বছরের ৮ থেকে ৯মাসই এই প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার কেন্দ্র থাকে। যারা ফলে কলেজের ছাত্রীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস নিতে না পাড়ায় পরিক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সমস্যা থেকে উত্তরনের একটাই উপায় হচ্ছে, এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা আরেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে, নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিক্ষা নেয়া। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারব না। শিক্ষামন্ত্রনালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এছাড়াও শিক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি জেলায় একটি করে পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ার কথা। এই পরীক্ষা কেন্দ্র তৈরি হয়ে গেলে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই এ ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে না।    

আপনার মন্তব্য

আলোচিত