০৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১৪
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কুমারশাইল চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা সন্তুস প্রতামের প্রায় পাঁচশতাধিক লেবুগাছ ও ২ শতাধিক পান গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। তবে, বাগান কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) রাতে পানগাছ ও বুধবার (৪ অক্টোবর) দিবাগরাতে লেবু গাছ কাটার এ ঘটনা ঘটে।
খাসিয়াদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কুমারশাইল মৌজার জেএল নং-৫৫/১৫৪ এর ৩২১ নং দাগের ২২১.৫০ একর ভূমিতে স্থানীয় আদিবাসি খাসিয়ারা দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু খাসিয়াদের এ ভূমি দখলের জন্য চা বাগান কর্তৃপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় খাসিয়াদের লাগানো ফসল চুরি করছে। রাতের আধাঁরে কেটে দিচ্ছে। এছাড়া মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত বুধবার (৪ অক্টোবর) রাতে চা বাগানের লোকজন দলবল নিয়ে সন্তুস প্রতামের বাগানের লেবু গাছ কাটতে থাকে। এসময় পাশের ছড়ায় মাছ শিকার করতে থাকা খাসিয়া পুঞ্জির দুইজন বাসিন্দা তা দেখে ফেলে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তারা পুঞ্জিতে পৌঁছে জানায়। খবর পেয়ে পুঞ্জির লোকজন বাগানে যাওয়ার আগেই চা বাগানের লোকজন পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে সন্তুস লেবু বাগানে গিয়ে দেখেন তার প্রায় পাঁচশতাধিক লেবু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) রাত থেকে শুক্রবার (৬ অক্টোবর) ভোররাতের যে কোন সময় আবারও খাসিয়াদের একটি পান জুমের ২’শতাধিক পানের গাছ কাটার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়ও তারা চা বাগান কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছে।
কুমারশাইল পান পুঞ্জির বাসিন্দা জেনি রাম্বাই ও লেবু বাগানের মালিক সন্তুস প্রতাম ল রবিবার (৮ অক্টোবর) বলেন, ‘জীবিকার একমাত্র উৎস লেবু গাছ কেটে ফেলায় এখন অসহায় হয়ে গেছি। আমরা আদিবাসি ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠির লোকজন। আমাদের এই ভূমিতে দীর্ঘদিন থেকে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের জন্য নানা চক্রান্ত করছে। তাদের টাকা পয়সার জোরে তাঁরা সব ম্যানেজ করে নেয়। সব জায়গায় তাদের ক্ষমতার জোর বেশি। তাদের কাছে আমরা অসহায় হয়ে আছি।’
এ ব্যাপারে কুমারশাইল চা বাগানের ম্যানেজার মুন্সি মারুফুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বাগানে নিয়ম অনুযায়ী লিজকৃত জায়গায় আবাদ করার জন্য পরিষ্কার পরিছন্নতার কাজ করছি। পাশাপাশি আবাদ করারও কাজ চলছে। কিন্তু খাসিয়ারা এতে বাঁধা দিচ্ছে। তাদের বাঁধা দেওয়ার ফলে গত সেপ্টেম্বর মাসে আমরা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি।’
লেবু গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পান পুঞ্জির লোকজনের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁরা আমাদের জায়গায় চাষাবাদ করে। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে। বিভিন্ন সময় তারা আমাদের হুমকি দেয়। হুমকির বিষয়টি চাপা দিতেই তাঁরা লেবু গাছ কাটার এ অভিযোগ করছে।’
আপনার মন্তব্য