সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

০৯ অক্টোবর, ২০১৭ ২২:২৪

‘সাংসদ কয়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে বাড়ি দখলের অভিযোগ ভিত্তিহীন’

যুক্তরাজ্য সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে শেখ রাহেলা বেগম ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন-দাবি করেছেন তারই ননদ বৃদ্ধ মাহমুদা খাতুন।

সোমবার বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, ঘটনার গুরুত্ব বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী এমপির নাম জড়ানো হয়েছে।

জায়গা দখলের কাল্পনিক অভিযোগে এমপি মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীকে জড়িয়ে ও আমাদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান মাহমুদা খাতুন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ভ্রাতৃবধূ শেখ রাহেলার কারণে তাদের পারিবারিক ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেও কালিমা লেপনের অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। পারিবারিক বিষয়কে কোনও মহল বিশেষ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টায় তাদের ভ্রাতৃবধূ শেখ রাহেলাকে ব্যবহার করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ করিয়েছেন।

মাহমুদা খাতুন বলেন- আমাদের পিতার রেখে যাওয়া এজমালি সম্পত্তি আত্মসাতের হীন উদ্দেশ্যেই আমাদের ভ্রাতৃবধূ ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশে অবস্থানরত দুই বোন ও তাদের সন্তানদেরকেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন। তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
মূলত; ননদদের ভূমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন শেখ রাহেলা। অন্যায়ের বিচার চাইতে আমরা বোনেরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বারস্থ হলে তিনি এলাকার মুরব্বীদের বিষয়টি দেখে দেওয়া দায়িত্ব দেন। এ ক্ষোভ থেকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে লন্ডন সফরকালে গত ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে কাল্পনিক বক্তব্য দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধা মাহমুদা খানমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান তার বোন হামিদা বেগমের ছেলে আলমগীর জামান বুলবুল।

মাহমুদা খাতুনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তাদের পিতা মরহুম মো. তফজ্জুল আলীর ৯ সন্তানের মধ্যে ৮ মেয়ে মাহমুদা খাতুন, হামিদা খাতুন, ফরিজা খাতুন, মৃত হাজিরা বেগম, হাসনা আলী, মরিয়ম ইসলাম, সালেমা জামান ও রাজনা চৌধুরী এবং একমাত্র ছেলে শেখ আবু তাহির। এরমধ্যে ৫ বোন ও একমাত্র ভাই দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত। তাদের ভাই-বোনদের জন্ম ও শৈশব কেটেছে পৈত্রিক বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের বাদেদেউলী গ্রামে। একমাত্র ভাই শেখ আবু তাহির বোনদের সবার বড়।

মাহমুদা বলেন, ‘আমরা বোনেরা যখন একেবারে ছোট তখন আমার পিতা আমাদের একমাত্র ভাইকেও যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসেন। পিতা মরহুম হাজী তফজ্জুল আলী যুক্তরাজ্য প্রবাসী হওয়ায় তিনি তার একমাত্র পুত্রের নামে লন্ডনে একটি বাড়ি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে আমার ভাই বাংলাদেশে এসে আমাদের একই উপজেলার রাজনপুর গ্রামের বাসিন্দা মহিউদ্দিন খান উরফে জড়ি খানে মেয়ে রাহেলাকে বিয়ে করে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যান। দেশে অবস্থানকালে আমাদের ভ্রাতৃবধূ শেখ রাহেলা আমাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেননি। পরবর্তীতে আমার ভাই তার স্ত্রী শেখ রাহেলাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গেলে তারা আমাদের পিতার ক্রয়কৃত বাড়িতেই বসবাস করতে থাকেন। এর কিছুদিন পর সেটেলমেন্ট ভিসায় আমাদের মা ও ৪ বোনকে আমাদের পিতা যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে ওই বাসাতেই তুলেন। কিন্তু, আমাদের ভ্রাতৃবধূ আমার মা বোনদেরকে সাদরে গ্রহণ করেননি। এক রাতে স্ত্রীর প্ররোচনায় আমাদের ভাই শেখ আবু তাহির, আমাদের বাবা-মা ও বোনদেরকে ওই বাসা থেকে বের করে দেন। আমাদের ৪ বোন ও মা-বাবা প্রায় ১ বছর এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রিত হিসেবে একটি ছোট কক্ষে বসবাস করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তাহির আলী দম্পতি বাবা-মা ও বোনদের সাথে কোন সম্পর্ক রাখেননি। এমনকি একমাত্র ভাই কখনোই পিতা-মাতাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেননি। ৫ বোন কোনোমতে বিভিন্ন চাকুরী-বাকুরী করে বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণের ব্যয় বহন করেন।পিতার জীবদ্দশাতেই পৈত্রিক বসতবাড়িটি ৫৬ শতক ভূমি মেয়েদের সাফকবালা দলিল করে দেন। ফলে, আমরা নির্বিঘ্নেই আমরা বোনেরা পিতৃ সম্পত্তি ভোগাধিকার করে আসছেন। বোনদের খরিদা ভূমি ছাড়াও আমাদের পিতার রেখে যাওয়া অপরাপর সম্পত্তি আমরা এজমালি হিসেবে ভোগদখল করে আসছেন তারা। প্রায় ৫ বছর আগে মা হনুফা খাতুন যুক্তরাজ্যে মারা গেলেও বোনেরা দেশে নিয়ে আসলেও দাফন করতে আপত্তি করেন একমাত্র ছেলে তাহির। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে আমাদের ওই ৫ বোনের দেওয়া অর্থেই আমাদের বাবা গ্রামের বাড়ি বাদেদেউলী গ্রামে একটি ঘর নির্মাণ করেন। পিতার নিকট থেকে সম্পাদিত সাফকবালা দলিলমূলে ওই বাড়ির মালিক হওয়া সত্বেও চলতি বছরের ১০ জুলাই দুই বোন হাছনা আলী ও রাজনা চৌধুরী পিতা-মাতার কবর জিয়ারত ও শিরণী করার উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়িতে এসে বসত ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পান- বলেন মাহমুদা। এ সময় বাড়ির কেয়ারটেকার মছব্বিরকে ঘর খুলে দিতে বললে সে অপারগতা জানিয়ে বলে, শেখ আবু তাহির ঘর খুলে না দেয়ার জন্য বলেছেন। কেয়ারটেকার মছব্বির ওই ঘরে আমার বোনদের নিজ টাকায় কেনা আসবাবপত্র তালাবদ্ধ করে রাখে। নিরুপায় হয়ে আমার বোনের ওই রাতে পার্শ্ববর্তী বোনের বাড়িতে রাত্রিযাপন করেন এবং পরবর্তীতে পঞ্চায়েতের মুরুব্বীয়ানাদের সহায়তায় আমার বোনেরা ঘরে প্রবেশ করেন। দেশে অবস্থানের পুরো সময়টাই আমার বোনেরা ওই বাড়িতে কাটান।

মাহমুদা বলেন- আমার বোনেরা আমাদের বসত বাড়িতে বসবাস করতে থাকলে আমাদের ভ্রাতৃবধূ শেখ রাহেলার ভাই আল মারুফ খান বাদী হয়ে আমাদের ২ বোনসহ ৫ জনকে আসামী করে সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চুরির মামলা দায়ের করে (মামলা নং-৪৪/২০১৭)। এছাড়া, উক্ত কেয়ারটেকার মছব্বির আমাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায়ও একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং- ৯/৬৭, তাং-২৭/০৯/২০১৭ ইং)। দুটি মামলাই এখন তদন্তাধীন আছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদা বেগম আরও বলেন, খরিদা ৫৬ শতক ভ’মি উপজেলার দেউলী মৌজার ১৯ স্থিত জেএল, জরিপের সাবেক ১০২৬ নং খতিয়ানভূক্ত সাবেক ২৪১২ নং দাগের সৃষ্ট হাল জরিপের বুজারত ৩৪৬৭ নং খতিয়ানভূক্ত ৩০৬৬ নং দাগের টিলা ও চারা রকম মোয়াজি ৫৬ শতক ভূমি‘। আমাদের ৬ বোন এই ভূমি আমাদের পিতার নিকট থেকে ০৮/১১/২০০০ ইং তারিখে সাফকবালা দলিল (নং-১৪৪৯) সম্পাদন করে মালিক, স্বত্ববান ও দখলকার আছেন। নিতান্ত প্রতিহিংসা বশত: আমাদের ভ্রাতৃবধূ শেখ রাহেলা তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন। এর নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাহমুদা খাতুনের পুত্র আব্দুস সালাম কামাল ও হামিদা বেগমের পুত্র জাহাঙ্গীর হোসেন সাহেদ।

  • [সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তথ্য সম্পর্কে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম স্বতন্ত্র কোন অনুসন্ধান চালায় নি।]

আপনার মন্তব্য

আলোচিত