১০ অক্টোবর, ২০১৭ ০৩:০৫
সিলেটের গোলাপগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি বেড়েছে উপজেলা জুড়ে। বেড়েছে হত্যা সহ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা। সর্বশেষ গোলাপগঞ্জ উপজেলায় গত একমাসে দুই হত্যাকাণ্ড সহ ৫টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে শিশু, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, তিনজন গৃহবধূ রয়েছেন। এসব ঘটনায় মাত্র ১১ জনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। তবে পুলিশ জানাচ্ছে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান রয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে খুন হন গোলাপগঞ্জ ফুলবাড়ি আজিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী, লক্ষ্মীপাশা কোনাচর গ্রামের সুন্দর আলীর পুত্র নূরুল আলম (১৭)। পবিত্র ঈদ উল আযহার দিন খুনিরা তাকে খুন করে ধানক্ষেতে ফেলে দেয়। সকালে স্থানীয় জনতা খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ১৬ বছরের তরুণীসহ ৬ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় কোনাচর দিঘিরপার গ্রামের কাশেম আহমদ (৩০) নামের যুবককে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে থানায় রিমান্ডে আনা হলে তার স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে ১০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) দিবাগত রাতে তরুণীসহ ৬ জনকে আটক করে থানা পুলিশ। তারা হলেন- ফুলবাড়ি ইউপির উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল মন্নানের মেয়ে লিমা বেগম (১৬), ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে শিপলু আহমদ (২৫), বাবুল আহমদ (২৪), ফুলবাড়ি ইউপির মিরাপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে লুৎফুর রহমান (৩২) একই ইউপির টিকরপাড়া গ্রামের মোর্শেদ আহমদ (২৬) ও বাঘা ইউপির বাঘা দক্ষিণ গ্রামের মাতাব আহমদের ছেলে অপু আহমদ (২২)।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মীর মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, কাশেমের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এর প্রেক্ষিতেই পুলিশ এগোচ্ছে।
২ সেপ্টেম্বর, শনিবার রহস্যজনক ভাবে খুন হন উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউপির নিমাদল গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী এবং সাহেব বাজার উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের মঈনুদ্দিনের মেয়ে পারভীন বেগম (২০)। ঘাতক স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ খাটে শুইয়ে রেখে গলায় একটি কাপড় পেঁচিয়ে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সে জানায় তার স্ত্রী ফ্যানের সাথে কাপড় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বাঁচানোর জন্য তার লাশ নামিয়েছে সে। তার কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মৃদুল কুমার ভৌমিক জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনো আসেনি। রিপোর্ট আসলে মূল রহস্য উন্মোচন হবে।
১০ সেপ্টেম্বর, রোববার সকালে নিজ বাড়িতে রহস্যজনক ভাবে আত্মহত্যা করেন উপজেলার বুধবারীবাজার ইউপির বাণীগ্রাম গ্রামের জাহেদ আহমদের স্ত্রী ও জকিগঞ্জ পৌরসভার মাইজকান্দি গ্রামের মৃত পাকি মিয়ার মেয়ে রাবিয়া বেগম (৩২)। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মৃত্যুর রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। এঘটনায় পুলিশও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মঞ্জুর আহমদ জানান, লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনো আসেনি। রিপোর্ট আসলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২৮ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুলবাড়ি ইউনিয়নের দড়া উত্তর পাড়া গ্রামের আসলম আলীর ছেলে শেখ মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৩৫) খুন হন আপন দেবরের হাতে। পারিবারিক কলহের জের ধরে দেবর আনুর মিয়ার সাথে সাফিয়া বেগমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আনুর লেহার রড দিয়ে সাফিয়াকে আঘাত করলে স্থানীয়রা আশংকাজনক অবস্থায় এই গৃহবধূকে হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলার এজাহার ভুক্ত ২ নং আসামি মিনা বেগম (৩৫) ও ৩ নং আসামি দিলারা বেগমকে (৩০) ৩ অক্টোবর সকালে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সহায়তায় বড়লেখা থেকে তাদের আটক করা হয়।
মামলার তদন্তকর্মকর্তা ওসি (অপারেশন) দেলওয়ার হোসেন জানান, হত্যার আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রধান আসামী ঘাতক আনুরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
১ অক্টোবর, উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুরে আপন পিতা মাতা নিজ প্রতিবন্ধী সন্তান আরিয়ানকে (২) খুন করে স্থানীয় বুরুদল নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় আরিয়ানের মামা হোসেন মিয়া বাদী হয়ে আরিয়ানের মা ও বাবাকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং- ০১/১৭) দায়ের করেন। এ ঘটনায় আরিয়ানের ঘাতক মা রাজিয়া বেগমকে (৩০) পুলিশ ঘটনার দিন আটক করলেও পালিয়ে যায় ঘাতক পিতা বাছিত আহমদ (৩৫)। পরে ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে শরিফগঞ্জের কালিকৃঞ্চপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মীর মোহাম্মদ আবু নাসের সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক যে কয়টি হত্যাকাণ্ড ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে প্রায় সবগুলোরই ‘ক্লু’ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পৃথক এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
আপনার মন্তব্য