সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:৫৩

টাঙ্গুয়া থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো ভারতীয় ৪ অভিনেতাকে

বৈধ কাগজ ছাড়াই শুটিং

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পোড়ামন-২ ছবির শুটিং করতে আসা ভারতের শক্তিমান নৃত্য পরিচালক রাজেস কুমার যাদব প্রকাশিত বাবা যাদব ও সাথে থাকা ছবির তিন কলাকূশলিকে টাঙ্গুয়ার হাওরে শুটিং করতে না দিয়ে ঢাকায় পুলিশি নিরাপত্তায় ফেরৎ পাঠিয়েছে তাহিরপুর থানা পুলিশ।

ভারতীয় এই চার অভিনেতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সমিতি ঢাকায় পুলিশের আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান ও তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় টাঙ্গুয়ার হাওরে শুটিং করতে দেওয়া হয়নি। তাদেরকে শ্হাজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ইমিগ্রেশন থানাতে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, জাজ মাল্টিমিডিয়ার রায়হান রাফিন পরিচালিত পোড়ামন-২ ছবির নাচের দৃশ্যে শুটিং করার জন্য ভারতের নৃত্য পরিচালক রাজেস কুমার যাদব প্রকাশিত বাবা যাদব এবং ছবির তিন কলাকূশলি বিপ্লব কুমার, সঞ্জয় কুমার ও রাজেস গতকাল শুক্রবার সকালে টাঙ্গুয়ার হাওরে যাবার উদ্দেশ্যে তাহিরপুর উপজেলা সদরের টাঙ্গুয়াইন্ হোটেলে উঠেন। শুক্রবার বিকেল থেকে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর, ট্যাকেরঘাটের নীলাদ্রি লেকসহ বিভিন্ন লোকেশেনে  পোড়ামন-২ ছবির নাচের দৃশ্য চিত্রায়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সুটিং করতে দেয়া হয়নি।

তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, ভারতীয় চার অভিনেতার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। আমরা হোটেল টাঙ্গুয়া ইনে এসে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদেরকে শ্হাজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ইমিগ্রেশন থানাতে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান জানান, নৃত্য পরিচালক রাজেশ কুমার যাদবসহ ৪ জনই সম্মানিত মানুষ। তাঁদের পাসপোর্ট- ভিসাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তাঁদের কাছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোন অনুমতি, কর প্রত্যয়পত্র নেই। এছাড়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সমিতিও ঢাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইজিপি মহোদয় বরাবরে অভিযোগ জানিয়েছে। আমরা তাঁদেরকে কাগজ দেখাতে বললে তারা নূর জাহান ছবি শুটিংয়ের কাগজ দেখান, কিন্তু তারা টাঙ্গুয়ার হাওরে করতে এসেছেন পোড়ামন (২) ছবির শুটিং। আমরা বলেছি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিয়ে কাজ করতে। আপাতত তাঁদের পুলিশি নিরাপত্তায় ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিমান বন্দর ইমিগ্রেশন থানায় পাঠানো হতে পারে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত