১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:১২
নিজের অধিকার, পৈতৃক সম্পতির অংশ, একটু আশ্রয় আর ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্যে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু পুলিশিরে কোন সহযোগীতা পাইনি। কারণ বিশ্বনাথ থানার ওসিসহ সকলেই আমার ভাইয়ের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন।
শনিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে নতুন বাজারস্থ বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে সৎভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজী কলমদর আলীর বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ-সম্মেলনে কলেজে পড়ুয়া সৎবোন শাহানারা বেগম এমন অভিযোগ করেন। শাহানারা বেগম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিংগেরকাছ কাজির গাঁও গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মৃত ওয়াব আলী ও আলেয়া বেগম দম্পতির মেয়ে।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেছেন, শাহানারা যতবারই থানায় গিয়েছেন, ততবারই তাকে সকল প্রকার আইনী সহযোগীতা তিনি দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশি সহযোগীতা পাওয়ার পরও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্নভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েই যাচ্ছেন, যা আদৌ সত্য নয়।
সিলেটের মঈন উদ্দিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী শাহানারা লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ৪ নভেম্বর তার সৎভাই লন্ডন প্রবাসী কলমদর আলী সংবাদ সম্মেলন করে তাকে অবৈধ সন্তানের অপবাদ দিয়েছেন যা, মানহানিকর মিথ্যা ও বানোয়াট। শুধু তাই নয়, কলমদর আলী তাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন, বৈধ পরিচয়কে জীবন্ত কবর দিয়ে জন্মদাতা মাতা-পিতাসহ সকলকে কলঙ্কিত করেছেন। বার বার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে বাড়ি থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করার হুমকি দিচ্ছেন। অথচ, ১৯৯৪ সালের ৫ মে তার ‘বাবা-মা’র বিয়ের (দ্বিতীয়) পর ১৯৯৫ সালের ২০ মার্চ শাহানারা এবং ২০০০ সালের ৩ মার্চ তার ছোট ভাই ইউছুফ আলী জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস আলী ও ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই বর্তমান চেয়ারম্যান আমির আলী তাদের উত্তরাধিকারী সনদপত্র দিয়েছেন।
গত ৪ নভেম্বররের সংবাদ সম্মেলনে সৎভাই কলমদর আলীর দেওয়া সকল বক্তব্যের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ে পৈতৃক সম্পত্তি ও ন্যায় বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন শাহানারা। তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছেন, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে সম্পত্তি চেয়ে আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে গোপনে একক ভাবে নামজারীর জন্যে স্থানীয় তফশীল অফিসে আবেদন করেন কলমদর আলী। আর এতে শাহানারা আপত্তি জানালে ২৩০৩/১৭ইং মামলায় ওই নামজারি খারিজ কওে দেওয়া হয়। আর নামজারী আবেদন বাতিল হওয়ায় ক্ষীপ্ত হয়ে সৎভাই কলমদর আলী নানাভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী শুরু করেন। যে কারণে আদালতে গিয়ে শাহানারা পৈতৃক সম্পত্তির ওপর তিনি ১৪৪ ধারায় মামলা করেন, (মামলা নং ৩৮/১৭)। এঘটনায় থানা পুলিশের কোন সহযোগীতা না পেয়ে চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক, ৩ অক্টোবর পুলিশি সুপার ও পুলিশ কমিশানার, ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনে স্মারকলিপি দেন শাহানারা বেগম। এছাড়া নিরাপত্তা চেয়ে গত ২ নভেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি-৯৩/১৭) ছাড়াও ৩ অক্টোবর সিলেট র্যাব-৯’এ অভিযোগ দায়ের করেন শাহানারা (অভিযোগ নং ২৮৬)।
আপনার মন্তব্য