নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:৩৭

অবকাঠামো সঙ্কটে বাধাগ্রস্ত সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনা

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

দেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি। পাহাড়, জল আর পাথরের অপূর্ব সমন্বয়ের বিছনাকান্দিতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় করেন। তবে অবকাঠামো সঙ্কটে দুর্ভোগে পড়তে হয় বিছনাকান্দিতে যাওয়া পর্যটকদের।

বিছনাকান্দিতে পর্যটকদের জন্য নেই কোনো শৌচাগার। নেই পর্যটকদের বিশ্রাম নেওয়া বা পোশাক পরিবর্তনের কোনো ব্যবস্থাও। ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় এই স্থানে বেড়াতে আসা নারীদের।

সিলেটের আরেক পর্যটন কেন্দ্র রাতারগুলেও নেই শৌচাগারের ব্যবস্থা বা বিশ্রামের সুবিধা। ফলে পর্যটকরা বনের মধ্যে পয়নিষ্কাশন করতে বাধ্য হন। এতে নষ্ট হচ্ছে বনের পরিবেশ।

কেবল এই দুটি নয়, সিলেটের সব পর্যটন কেন্দ্রেরই অবস্থা এমন। সিলেটে পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনা থাকলেও এখানে নেই অবকাঠামোগত কোনো সুবিধা। অবকাঠামো সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা। বিছনাকান্দি, রাতারগুল, হাকালুকি বা টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায় এখনো সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেনি আবাসন সুবিধাও। ফলে ভাঙ্গাচোরা সড়কের দুর্ভোগ পেরিয়ে পর্যটকদের যেতে হয় এসব স্থানে। এতে করে পর্যটক হারাচ্ছে সিলেট।

অবকাঠামো সঙ্কটে সিলেটের পর্যটন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, সিলেটের পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অবকাঠামো সঙ্কটে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এখানকার কোনো পর্যটন কেন্দ্রেই ওয়াশরুমের ব্যবস্থাটুকুও নেই। ফলে পর্যটকদের এসব স্থানে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তিনি বলেন, সিলেটের অনেক ব্যবসায়ীই পর্যটনখাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। কিন্তু সড়কের ভগ্নদশা আর অবকাঠামো সঙ্কটে পর্যটকরা সিলেটে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় অনেকেই এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সিলেটের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগে দীর্ঘ ছুটিতে সিলেটে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কমছে পর্যটক সমাগম। সড়কের বেহাল দশা ও অবকাঠামো সঙ্কটের কারণে পর্যটক কমছে বলে মনে করেন তারা।

সিলেটে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল। এসব স্থানের কোনোটিতে ন্যূনতম পাবলিক টয়লেটের সুবিধাও নেই।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সাবেক সদস্য ডা. জাকারিয়া আহমদ বলেন, এখানে পর্যটকদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বা ব্যবস্থাপনাই নেই। প্রাকৃতিক কিছু সুন্দর জায়গা আছে। এসব দেখতে পর্যটকরা আপনা থেকেই আসেন। কিন্তু তাদের ধরে রাখতে ন্যূনতম কোনো উদ্যোগ নেই। একটি পর্যটন কেন্দ্রে যথেষ্ট পাবলিক টয়লেট, বিশ্রামাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা- এগুলো থাকাটা আবশ্যক। কিন্তু সিলেটের কোনো জায়গায়ই এসব সুবিধা নেই। ফলে দিন দিন সিলেট থেকে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, কেবল দামি দামি রিসোর্ট করলেই তো পর্যটকরা আসবে না। পর্যটকরা রিসোর্ট দেখতে আসে না। সিলেটে পর্যটন বিকাশে অনেকগুলো বাধা রয়েছে। এগুলো দ্রুত দূর করতে হবে।

এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বলেন, সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ওয়াশ ব্লক নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। শীঘ্রই এসবের কাজ শুরু হবে। পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার সড়কগুলোরও সংস্কার কাজ চলছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত