সিলেটটুডে ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:১৭

দেশপ্রেমের চেতনায় চিকিৎসকদের সেবা করার আহবান

সিলেটে দ্বিতীয় রিজিওনাল সায়েন্টিফিক কনফারেন্সে বক্তারা

দেশের এন্ডোক্রাইনোলজি বিষয়ের চিকিৎসকদের জাতীয় সম্মেলন সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিকিৎসকদের দক্ষতা ও শৃঙ্খলা শিক্ষণের প্রত্যয়ে গঠিত সংগঠন ‘এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এন্ড ডায়াবেটলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসিইডিবি) দ্বিতীয়বারের মতো এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এন্ডোক্রাইনলোজি বিষয়ে দেশের অভিজ্ঞ ও খ্যাতিমান চিকিৎসকরা সম্মেলনে যোগ দেন। তারা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দেশ ও মানুষের সেবায় কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

অসচেতনতার কারণে লক্ষ কোটি মানুষ ডায়াবেটিক ও থায়রয়েড সমস্যাসহ নানান রোগে ভোগছেন। এজন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য গঠনের লক্ষে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে তরুণ চিকিৎসকদের আরো অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন খ্যাতিমান চিকিৎসকরা। ডায়াবেটিক মানুষকে বিকলাঙ্গ করে দিচ্ছে এমনটা জানিয়ে এই মহামারি থেকে জাতিকে বাচাতে সর্বক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সম্মেলনে আহবান জানানো হয়।
 
বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর দরগাগেইটস্থ হোটেল স্টার স্পেসিফিক-এর কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত দেশের দ্বিতীয় রিজিওনাল সায়েন্টিফিক কনফারেন্সে বক্তারা এসব কথা বলেন। পাঁচ পর্বের এই সম্মেলন বেলা ৯টা থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৬টায়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এসিইডিবি‘র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সমে¥লন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের প্রফেসর ডা. সৈয়দ শহিদুল ইসলাম।

সম্মেলনে ডায়াবেটিক ও থায়রয়েড সমস্যাসহ মানুষের মধ্যে জটিল রোগের হার দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে প্রবীণ চিকিৎসকরা বলেছেন এজন্য স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তবেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে।

বক্তারা স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রে আর্টিকেল রচনা করে সচেতনতা বাড়ানোর কথা তুলে ধরে বলেন মানুষের সচেতনতায় এই মাধ্যমকে বড় হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

সম্মেলনের তৃতীয় পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) সিলেট শাখার সভাপতি প্রফেসর ডা. রুকন উদ্দিন আহমেদ, এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এন্ড ডায়াবেটলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসিইডিবি) এর সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনলোজি এন্ড মেটাবলিজম বিভাগের (অব:) বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আব্দুস সালিক মোল্লাহ, এসিইডিবি‘র সেক্রেটারি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনলোজি এন্ড মেটাবলিজম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল জলিল আনছারি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনলোজি বিভাগের ডিইএম, এমডি এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন এবং সিলেট এম.এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. এ.এফ.এম নাজমুল ইসলাম।

ডা. সুমনা তনু‘র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. রুকন উদ্দিন আহমদ বলেন, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় আমাদের পৃথিবীর সাথে এগিয়ে যেতে হবে। না হয় আমরা হারিয়ে যাব। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বড় বড় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সফলতা দেখিয়েছেন। অচিরেই সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাও শুরু হবে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি দেশপ্রেমের চেতনায় তরুণ চিকিৎসকদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন বিজ্ঞানে সুযোগ দক্ষভাবে কাজে লাগাতে পারলে বিদেশীরা আমাদের দেশে চিকিৎসা নিতে আসবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনলোজি বিভাগের ডিইএম, এমডি প্রফেসর ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, এন্ডোক্রাইনলোজি একটি বাস্তবিক বিষয়। মানুষের মধ্যে অতীতে সচেতনতা ততটা ছিলোনা, এখন কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু অবস্থা বলছে কোটি কোটি মানুষ ডায়াবেটিক ও থায়রয়েড সমস্যায় ভুগছেন। এজন্য শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে পারব। এসব সমস্যা হাজার হাজার মানুষের শরীরের অঙ্গ ধ্বংস করে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য দেশের মানব সম্পদ যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি সরকারের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (অব:) প্রফেসর আব্দুস ছালিক মোল্লাহ বলেন, এসিইডিবি‘র প্রত্যেক সদস্য পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি এন্ডোক্রাইনলজি বিষয়ে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজসহ অন্যান্য মেডিকেলের চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

প্রফেসর ডা. আব্দুল জলিল আনছারি বলেন, সিলেট হচ্ছে আবেগের জায়গা। শাহজালাল (রহ:)সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এই পুণ্যভূমি ভাল লাগার শহর। এখানে আসলে বিজয় হয়। তিনি বলেন এসিইডিবি সংগঠন একটি প্রফেশনাল সংগঠন। আমরা সরকার ও অন্যান্য সংগঠনের প্রতি আস্থাশীল। সবার সাথে থেকেই পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও শৃঙ্খলিত থেকে মানব সেবায় এগিয়ে যেতে চাই।

সম্মেলনের তৃতীয় পর্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসিইডিবি‘র সদস্য সচিব ও সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনলোজি বিবাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহ ইমরান। কোরআন তেলাওয়াত করেন ডা. আব্দুল হান্নান তারেক। সম্মেলনে বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রফেসর ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ও ময়মনসিংহ জেলায় চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় প্রফেসর ডা. নজরুল ইসলাম সিদ্দিকীকে এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

এর আগে আমন্ত্রিত অতিথি ও সভাপতি, সদস্য সচিবকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তরুণ চিকিৎসকরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ডা. শহিদুল ইসলাম পুণ্যভূমিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অসচেতনতার কারণে ডায়াবেটিক ও অন্যান্য সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই সকল মেডিকেলে মানব সেবার লক্ষে এন্ডোক্রাইনলজি বিষয়ে সুযোগ বৃদ্ধির আহবান জানান তিনি।

সম্মেলনে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য কয়েক‘শ চিকিৎসক অংশ নেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত