২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:৪০
মহান মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের প্রথম সংগঠন ‘ইনোভেটর’ এর একযুগ পূর্তি উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশকে ভালোবাসতে হলে মুক্তিযুদ্ধের বইপড়ার কোনো বিকল্প নেই। ভয়হীন সমাজ গঠনে বইই হতে পারে আলোর মশাল। আগামীর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে জ্ঞানের ভিত্তিতে।
‘ইনোভেটর’র বইপড়া আন্দোলনকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা আরো বলেন, ইনোভেটরসরা যে আলো সিলেট থেকে জ্বালালো তা আমাদেরকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে হবে। আজকের তারুণ্যকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হলে ইতিহাস চর্চার কোনো বিকল্প নেই। যে জাতি তার জন্মের ইতিহাস জানেনা সে জাতি কখনো বড় হতে পারেনা। আর দেশপ্রেমহীন তারুণ্যও দেশকে ভালো কিছু দিতে পারেনা।
শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগরীর লামাবাজারস্থ মদনমোহন কলেজ মিলনায়তনে ‘কথা, পরিকল্পনা ও ভাবনা বিনিময়’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন বাঙালির সবচেয়ে গৌরবের অধ্যায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে কখনো লাল, কখনো নীল হতে পারে না। রক্তের রঙ চিরকালই লাল আর বাংলার পতাকা লাল-সবুজ।
বই হচ্ছে আত্মার ঔষধ জানিয়ে বক্তারা আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ুয়ারা কখনো বিপথগামী হতে পারেনা। নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান, নীতি, নন্দন চর্চায় নিযুক্ত হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে ধারণ করা তারুণ্যই আগামীর ভরসা।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ইনোভেটর’র মুখ্য সঞ্চালক রেজওয়ান আহমদ। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ আবু সাফায়েত মুহম্মদ শাহেদুল ইসলাম, মদনমোহন কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, শাবিপ্রবি’র আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়।
‘ইনোভেটর’র গৌরবময় পথচলা নিয়ে আলোকপাতের পাশাপাশি বইপড়া উৎসবকে ঘিরে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন নির্বাহী সঞ্চালক প্রণবকান্তি দেব। বইপড়ার গুরুত্ব ও উৎসবের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বইপড়া উৎসব-২০০৮ এর শ্রেষ্ঠ পাঠক রেজওয়ানুল হক মাসুদ। ইনোভেটর’র সংগঠক জোবেদা ঊর্মী ও আশরাফুল ইসলাম অনির সঞ্চালনায় মতবিনিময়ের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন ইনোভেটর’র প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌসী তারিন।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক খালেদ উদ দীন, সরকারী অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষিকা কোহেলী রানী রায়, বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা সুলতানা খানম, বেলটা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমদ, স্কলারসহোম শাহী ঈদগাহ এর শিক্ষিকা সালমা আনোয়ার, আমেরিকান করনার সিলেট এর পরিচালক মোস্তফা কামাল, প্রথম আলো বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, কিন সংগঠন থেকে মো. হোসাইন আহমদ।
এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন পারভিন আক্তার, শাহ সিকান্দর শাকীর, মো. এজাজুল হক চৌধুরী, নাজওয়া চৌধুরী, নাফিজ ইমতিয়াজ, বঙ্কিম পাল ধ্রুব, কাজী তৌসিফুল হুদা, মবরুর আহমদ সাজু, তারেক আহমদ রিয়ান, তানভীর রেজা খান, সুমন রায়, সুবিনয় আচার্য রাজু, আলমগীর হোসেন, মাহবুবুর রউফ নয়ন, নাবিলা, তাসনিয়া, মমতাজ জাহান, মো. নাঈম আহমদ, ফিরোজা, জিয়াউর রহমান, সাকের আহমদ, আপন, ইশতিয়াক হোসেন মুনশি, সঞ্জয় নাথ সঞ্জু, অপর্ণা ভৌমিক, মীর মৌ, তাসনীমা সাজনীন প্লোপা, রেজওয়ানা সামী, মোহাম্মদ রাফসান, নাইমূর রাহী, মোত্তাকিন দিপু, সৌরভ আচার্য, মো. নিহাম মতিন।
আপনার মন্তব্য