শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৫৭

‘নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে’

শ্রীমঙ্গলে আন্ত:ধর্মীয় আলোচনা সভায় বক্তারা

নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্নাআয়ের সাধারণ মানুষ। এই নির্মমতা উন্মুক্ত হৃদয়ের মানুষকে ব্যথিত করেছে। এর সমাধান হচ্ছে মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে ধর্মীয় আলোচনা বাড়াতে হবে। একে অপরের মধ্যে বিবাদ ভুলে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা অডিটোরিয়ামে আন্ত:ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথাগুলো বলেন। এই আলোচনা সভার মূলসুর ‘উন্মুক্ত হৃদয় আনে শান্তি ও সম্প্রীতি’।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় গুরুরা যদি এক টেবিলে বসে আলোচনা করতে পারে তবেই এই পৃথিবীর অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে।

আলোচক হিসেবে সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ বলেন, সৃষ্টিকর্তার যে বিশ্বাস না করে তবে সে ধার্মিক হতে পারে না। সবকিছুর মধ্যে যে ঈশ্বরের উপস্থিতি আছে তা অনুভব করতে হবে। সকল ধর্ম মনের দরজা খোলা রাখতে বলে। আমিকে জানাই হচ্ছে ধর্ম। হিংসা মানুষ কলুষিত করছে। এজন্য চোখ খোলে নয় চোখ বন্ধ করে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন তবেই নিজেকে সংশোধন করতে পারবেন। যেন নিজেকে যেভাবে ভালোবাসি সেভাবে যেন সবাইকে ভালবাসতে পারি।
 
সিলেট বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ সংঘানন্দ থের বলেন, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ। এই নির্মমতা উন্মুক্ত হৃদয়ের মানুষকে ব্যথিত করেছে।

তিনি বলেন, এজন্য সম্প্রীতি খুবই দরকার। সুন্দর মন নিয়ে কেউ যদি কাজ করে তাহলে এগিয়ে যাবেই। এজন্য নিজের মননকে ঠিকমত ব্যবহার করতে হবে। মা যেমন তার সন্তানকে নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করেন তেমনি সকল প্রাণিকে রক্ষা করতে হবে। ধর্মীয় গুরুরা যদি এক টেবিলে বসতে পারে তবেই এই পৃথিবীর অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। নিজের হৃদয়কে আগে পরিস্কার করতে হবে।

আলোচকের বক্তব্যে সিলেট ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশ ধর্মপাল বিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, ওএমআই, বলেন, পৃথিবীর সকল মানুষ এক ও অভিন্ন। সৃষ্টিতত্ত্বে মানুষে মানুষে কোন পার্থক্য নেই। আকৃতি-প্রকৃতি, সুখ-দুঃখ, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, আহার-বিশ্রামের অনুভূতিতে সব মানুষ এক। পৃথিবীর যেকোনো দেশের অধিবাসী হোক, মানুষের একমাত্র পরিচয় সে মানুষ। সবার উপরে মানুষ সত্য -এটিই শান্তি ও সম্প্রীতির মূলমন্ত্র।

তিনি বলেন, প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালবাসতে হবে। লোকদেরকে বাইরের বিষয়টা দেখাতে চেষ্টা না করে ভিতরের অন্তরের ভিতরটা দেখাতে হবে। রোহিঙ্গা বিষয়টি পোপকে অনেক বেদনা দিয়েছিল। রোহিঙ্গাদের সাথে যে নির্মমতা করা হয়েছে তার জন্য পোপ মহোদয় ক্ষমা চেয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা পাশাপাশি বসবাস করেও বসবাস করছি না। ভালোর দ্বারা মন্দকে জয় করতে চেষ্টা করতে হবে। সহিংসতা শান্তিকে বিনষ্ট করে। এজন্য সবাইকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন হবিগঞ্জের ডেপুটি ডিরেক্টর শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, যে নিজের রাগ হজম করতে পারে সেই মহান। সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই যে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসে। যেখানে শান্তি আছে সেখানে উন্নয়ন টেকসই হবে।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এমন হস্তক্ষেপ কোন ধর্মই সমর্থন করে না। এ ব্যাপারে প্রশাসন তথা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা দরকার।

সভাপতির বক্তব্যে শ্রীমঙ্গল ক্যাথলিক মিশনের পালপুরোহিত ফাদার নিকোলাস বাড়ৈ বলেন, আন্ত:ধর্মীয় আলোচনা সভার মূলসুর ‘উন্মুক্ত হৃদয় আনে শান্তি ও সম্প্রীতি’ বিভিন্ন ধর্মের আলোচকবৃন্দের সনির্বন্ধ ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনার মধ্য দিয়ে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যতান তথা সম্প্রীতির বার্তা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।

অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এডভোকেট জ্যোৎস্না আক্তার বেবী বলেন, মানুষ এই সত্যকে ভুলে ভেদাভেদ তৈরি করেছে। ভেদবুদ্ধিতে প্রণোদিত হয়ে গড়ে তুলেছে বিভেদের দুর্ভেদ্য প্রাচীর। কিন্তু সেই অসংখ্য বর্ণ-বৈচিত্র্যের মাঝেও অতীতের মত আজো মানুষ বহন করে চলেছে এক ও অভিন্ন রক্ত এবং সম্প্রীতির এক চিরন্তন মানব ঐতিহ্য।

আন্ত:ধর্মীয় আলোচনা সভাটি সঞ্চালনায় করেন সিলেট ধর্ম প্রদেশ আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ কমিশনের সদস্য ডমিনিক সরকার রনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত