৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৬
তৈরি পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আড়ং-এর পক্ষ থেকে তাদের সিলেট শাখার কর্মীদের নিয়ে শুক্রবার আয়োজন করা হয় বনভোজনের। নগরীর টিলাগড়ে বনবিভাগের বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে সাউন্ড সিস্টেমসহ বনভোজনে অংশ নেয় আড়ংয়ের অর্ধশতাধিক কর্মী। সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে গান বাজনারও আয়োজন ছিলো এতে; বনের ভেতরে চলে খাওয়া দাওয়া।
বনের ভেতরে একসাথে এতো লোক নিয়ে বনভোজনের আয়োজন ও উচ্চ শব্দে গান বাজনার ফলে বনের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা। বনের ভেতর এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নগরবাসীর বিনোদন সুবিধার জন্য টিলাগড়ে পাহাড়-টিলাবেষ্টিত বনের ১১২ একর জমিতে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ইকোপার্কে বনবিভাগের পক্ষ অবমুক্ত করা হয় বিভিন্ন জাতের বন্যপ্রাণি। এছাড়া নানা সময়ে উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণিও অবমুক্ত করা হয় এ বনে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এখানে ৫০ প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ। এছাড়া প্রায় ৩০ প্রজাতির প্রাণিও আছে।
আড়ংয়ের বনভোজনে উচ্চশব্দের কারণে বন্যপ্রাণি বন ছেড়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা পরিবেশকর্মীদের। গত শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই বনভোজনের আয়োজন করে আড়ং।
এমন আয়োজনের অনুমোদন প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, এইরকম কাজ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নগরীর উপকণ্ঠে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্রকে পার্ক বানানোর পায়তারা করা হচ্ছে। যা বন বিভাগের কাছ থেকে কোনভাবেই আশা করা যায় না। বন বিভাগের কাজ হচ্ছে বন সংরক্ষণ। কিন্তু তারা সেটা না করে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলকে বিনোদন কেন্দ্রে রূপ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আড়ং এর মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমনটা আমরা আশা করিনি। তাদের এই কাজ দেখে আরও অনেকেই উৎসাহিত হয়ে এরকম কাজ করতে পারে। যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণি এবং বনাঞ্চলের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এ ব্যাপারে আড়ং-এর সিলেট শাখার ব্যবস্থাপক মো. মেহবুব আলম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিলেটে চাকুরীজীবীদের বিনোদনের জন্য কোন পার্ক নেই। তাই আমরা ওই জায়গাটাতে ছোট একটি পিকনিক আয়োজন করেছিলাম। আমরা এই বিষয়ে বনবিভাগ থেকেও অনুমতি নিয়েছি।
মাইক ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু ৫০ জনের অধিক মানুষ ছিল তাই আমরা মাইক নিয়েছিলাম। ১৫ মিনিটের মত মাইক ব্যবহার করার পর বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসে তা বন্ধের নির্দেশ দিলে আমরা মাইক বন্ধ করে ফেলি।
তিনি বলেন, অসাবধানতাবশত এই ভুল হয়ে যাওয়ায় আমরা দুঃখিত। আগামীতে এইরকমের ভুল আর হবে না।
তবে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এএসএম মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা তাদের ঘোরাফেরার অনুমতি দিয়েছিলাম। কোন প্রকার পিকনিক কিংবা মাইক ব্যবহারের অনুমতি তাদের দেওয়া হয়নি। যদি তারা মাইক ব্যবহার করে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য