শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:১২

শ্রীমঙ্গলে জমে উঠেছে পূজার কেনাকাটা, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শ্রীমঙ্গল শহরের মার্কেটগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সেই সাথে শহরের বিপণিবিতানগুলো সেজেছে বর্ণিল সাজে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানগুলোতেই সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি রয়েছে শাড়ি, ফতুয়া ও উজ্জ্বল রঙের ওড়না। পাঞ্জাবি, জিন্স, টি-শার্টের দোকান থেকে নিজের পছন্দের পাঞ্জাবি কিনছেন তরুণেরা। অনেক ক্রেতা পছন্দের জিনিসটি খুঁজতে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেট ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শাড়ি, থ্রি-পিস, শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে বেশি। সব মিলিয়ে পূজার বাজার এখন সরগরম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও শহরমুখী হওয়ায় শহরের স্টেশন রোড, হবিগঞ্জ রোড, চৌমুহনা, মৌলভীবাজার রোডের আশপাশ রাস্তায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও যানজটের কারণে ক্রেতাদের একটু অসুবিধা হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে পছন্দসই পোশাকসহ কেনাকাটা করতে দেখা যায়।

গীতাশ্রী বস্ত্র বিতান, এমবি লিগেসি, বিলাস, ফাসিউর রহমান মার্কেট, মদিনা মার্কেট, আরমান শপিং কমপ্লেক্স, শ্রীলক্ষী বস্ত্রালয়, শাপলা মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও বেচাকেনা তত বাড়ছে।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রুপা রায় জানান, বরাবরই দেশীয় কাপড়ের পোশাক পরে থাকি। তাই সবসময় কেনাকাটাও করি বুটিক হাউস থেকে। তবে এবার ভিন্ন ধরনের পোশাক কিনব।

মদিনা মার্কেটের ব্যবসায়ী তুষার দেব জানান, এবারের পূজার বাজারে দেশি কাপড়ের তুলনায় বিদেশি কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি কাপড়ও কিনছেন অনেকে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কাপড়ের দাম বেশী এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। তারপরও সবারই লক্ষ্য পরিবার পরিজনের জন্য নতুন কাপড় কেনা। ক্রেতারা সাশ্রয়ী দামে কাপড় কিনতে তাই এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন।

এদিকে পূজার বাজারকে সামনে রেখে ছিনতাই, চুরি, ইভটিজিংসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় বড় মার্কেটে ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক মার্কেটে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ পরিকল্পনায় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা যায়। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারীসহ চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত