২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ২১:৩০
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার বিরোধী দলের এমন সফল কর্মসূচী দেখে ভীত হয়ে উঠেছে। যার ফলেই সরকার আবার দমন-পীড়নের পথেই এগোচ্ছে। দমন-পীড়ন-নির্যাতন-নিপীড়ন করে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বন্ধ করা যায় না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
বুধবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের রেজিস্ট্রি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভা শেষে ঢাকায় ফেরার পথে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সমাবেশ করার অনুমতি আমরা ২৩ তারিখ চেয়েছিলাম। কিন্তু আমদের ২৩ তারিখে আমদের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। পরবর্তীতে আমরা ২৪ তারিখ অনুমতি চাইলে সেটিও তারা দেয়নি। পরে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সিলেটে সমাবেশ করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই জনসভার অনুমতি দেয়ার পরে আমরা ভেবেছিলাম তাদের সহযোগিতা আমরা পাবো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি সিলেটে শান্তিপূর্ণ ভাবে একটি সমাবেশ শেষ করার পরেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে আটক করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় আরো কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে যাদের নাম আমি এই মূহুর্তে বলতে পারছি না।
তিনি বলেন, সমাবেশকে ঘিরে গতকাল রাত থেকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের তাদের বাসাবাড়ি থেকে আটক করা হয়। সিলেটের পাশাপাশি সারাদেশে সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক করছে আমি তার নিন্দা জানাই। আমরা এ সব থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি ও গ্রেপ্তারকৃতদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সরকার ভীত হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিষ্কার বুঝা যায় যে সরকার বিরোধী দলকে কোন জায়গা দিতে চাচ্ছেনা। এর কারণ সরকার বিরোধী দলের এমন কর্মসূচী দেখে ভীত হয়ে উঠেছে। এতো চাপের মধ্যে এমন সফল একটি সমাবেশ শেষ করায় সরকার ভীত হয়ে উঠেছে। যার ফলেই সরকার আবার দমন-পীড়নের পথেই এগোচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে কোনদিনই শুভ নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, এমন দমন-পীড়ন-নির্যাতন-নিপীড়ন করে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বন্ধ করা যায় না। আমি মনে করি জনগণের যেসকল দাবি রয়েছে সেসকল দাবি মেনে নিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক এবং অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করে সংসদ বাতিল করে দিয়ে একজন নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা দরকার। এটা না হলে কোন দিনই এ সংকটের সমাধান হবে না এবং বাংলাদেশের জনগণের কোনদিনও গণতান্ত্রিক মুক্তিও আসবেনা।
আপনার মন্তব্য