২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:১৭
সিলেটের বিশ্বনাথে সুরমা নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে উপজেলার মাহতাবপুর, মাধবপুর ও সিলেট সদর উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের মৎস্যজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের গুলচন্দ বাজারে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন- জুয়েল মিয়া, ইব্রাহিম আলী, জাকির মিয়া, হুসাইন আহমদ, লায়েছ মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন, গৌছ উদ্দিন ও অটোরিকশা চালক বারিক মিয়া। বাকি আহতদের নাম জানা যায়নি। তবে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালুকদার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহতাবপুর এলাকায় সুরমা নদীতে মাছ শিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাহতাবপুর ও ফতেহপুর-মাধবপুর গ্রামের মৎস্যজীবীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় মাহতাবপুর গ্রামের মৎস্যজীবীরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে তাদের বাঁধা দেন ফতেহপুর-মাধবপুর গ্রামের মৎস্যজীবীরা। একপর্যায়ে মাছ ধরতে যাওয়া লোকজনদেরকে ধাওয়া করে বাঁধা প্রদানকারী গ্রামের লোকজন নদী পাড়ি দিয়ে গোলচন্দ বাজারে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ইট পাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন লোক আহত হন।
এ ব্যাপারে মাহতাবপুর গ্রামের বশির উদ্দিন বলেন, সুরমা নদীর সপ্তম খণ্ড (আতাপুর ডহর থেকে মাধবপুর ডহর পর্যন্ত) আমরা মৎস্যজীবীরা বিভিন্ন জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল তাদের ব্যক্তি স্বার্থে নদীতে কাঁটা-বাঁশ ফেলে রাখে এবং মাছ ধরতে আমাদের নিষেধ করে আসছে। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। বুধবার সকালে আমাদের গ্রামের মৎস্যজীবীরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে মাধবপুর গ্রামের মশাহিদ আলী, বাদুল্লাহ, লাল মিয়া ও ফতেহপুর গ্রামের মনু মিয়া, ছৈদুর রহমানের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের কয়েকজন মৎস্যজীবী আহত হয়েছেন।
মাধবপুর গ্রামের মশাহিদ আলী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার নিরীহ দরিদ্র মৎস্যজীবীরা নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু বশির মিয়া লোকজন নদীতে বাঁশ ফেলে রেখে মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে নিষেধ করে আসছেন। বুধবার আমরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে তারা (বশির লোকজন) আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের কয়েকজন মৎস্যজীবী আহত হয়েছেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মন্তব্য