২৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:১৪
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল হোসেন।
বুধবার বিকেলে সিলেট রেজিস্টারি মাঠে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
একইসঙ্গে সমাবেশ থেকে তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন।
কামাল হোসেন বলেন, আমাদের সাতদফা দাবির প্রথমেই আছে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।
সমাবেশে বিএনপির প্রায় সব নেতাই খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' বলে বক্তৃতা শেষ করা সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মুহম্মদ মনসুর আহমদও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী, তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
আর ঐক্যফ্যন্টের আরেক নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রস্তাব ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
সিলেটের সমাবেশে তিনি বলেন, 'আগামী ৪ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর প্রস্তাব। একইসঙ্গে তিনি ’৭৫-৪ নভেম্বরে জেলাখানার ভেতরে খুন হওয়া জাতীয় ৪নেতা এবং জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করারও প্রস্তাব করছি।'
সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের সবাই আজ ঐক্যবদ্ধ। কেবল স্বাধীনতাবিরোধীরা ছাড়া। শেখ হাসিনা এখন একা হয়ে পড়েছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, আমাদের সংবিধানে আছে জনগণ ক্ষমতার মালিক। কিন্তু গত দশবছর ধরে জনগণকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। আমরা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্যই ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। এদেশে জনগণ যতবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ততবার বিজয়ী হয়েছে। তাই সবাই ঐক্যবদ্ধ হন, বিজয় আমাদের অবশ্যম্ভাবী।
তিনি বলেন, বলা হয়ে থাকে উন্নয়ন উন্নয়ন। কিন্তু কার উন্নয়ন? সব মানুষের উন্নয়ন না মুষ্ঠিমেয় কয়েকজনের উন্নয়ন? যারা আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তাদের উন্নয়ন? আমরা চাই দেশের ১৬ কোটি মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বেই এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না এবং নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করা আমাদের লক্ষ্য। আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের এসব অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।
দুপুর থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন ঐক্যফন্টের নেতারা। বিকেল ৩টার মধ্যে পুরো রেজিস্টারি মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে পথেপথে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আটকে দেওয়া হচ্ছে গাড়িবহর। সমাবেশের আগের রাতে নগরীতে অভিযান চালিয়ে ৬৮ বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরীর বাসায় বৈঠককালে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ১০ নেতাকর্মীকে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেকের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া সমাবেশে জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মো মোশররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, গণফোরামের মহাসচিব মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ হ ম মোস্তফা আমিন, শহীদুল্লাহ কায়সার, এলডিপি মহাসচিব ড. রেজওয়ান আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, ইনাম আহমদ চৌধুরী, নেজামে ইসলাম পার্টিও চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, জয়নাল আবেদীন ফারুক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আপনার মন্তব্য