মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

২৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৪১

চুলের গোঁড়া ও চোখ দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে রক্ত ঝরে রুমানার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রুমানা আক্তার শিফা (২৫) জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী। বিগত ২ বছর থেকে রক্তক্ষরণ জনিত বিরল এক রোগে আক্রান্ত তিনি। তার চুলের গোঁড়া নাক, কান ও চোখ দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে রক্তক্ষরণ হয়।

রুমানা উপজেলার নোয়াগাও এলাকার মৃত হেকিম আলীর ৬ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। তিনি ২০১৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জিতেছেন স্বর্ণপদক। পরিবারের সকল সদস্যদের মধ্যে সবার ছোট হওয়ায় বাবা-মা-ভাই-বোনের আদরে আহ্লাদেই বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু হটাৎ একটি বিরল রোগে বদলে গেছে রুমানার জীবন।

২ বছর আগে হঠান শুরু হয় তার নাক-কান দিয়ে রক্ত ঝরা ১ বছর যেতেই দেখা গেলো মাথায় চুলের গোঁড়া দিয়ে রক্ত ঝরা শুরু হয়েছে। গত ২ মাস যাবত নতুন করে চোখ দিয়ে শুরু হয়েছে রক্ত পরা। ৭ দিন কখনো ১৫ দিন কখনো ১ মাস পর পর রক্ত ঝরে। এনিয়ে সিলেটসহ ঢাকার বিভিন্নস্থানে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে শুধু রোগ সনাক্ত করতেই চলে গেছে ৪ লক্ষ টাকা।

রুমানা বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। এদিকে বড় ভাই-বোনেরা বিয়ে করে যার যার পরিবার নিয়ে আলদা থাকেন। তাই বাবাহীন সংসারে মাকে নিয়ে তার সংসার সে সংসারের খরচ চলে আমেরিকা প্রবাসী খালার সাহায্যে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দুই ভাই যার যার পরিবার নিয়ে ভালই চলছেন কিন্তু মা আর বোনকে আলাদা থেকে চলতে হচ্ছে আত্মীয়দের সাহায্যের উপর ভর করে।

সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরের সাথে আলাপ কালে রুমানা জানায় ২ বছর আগে যখন তার নাক কান দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয় তখন সে সিলেট ইবনে-সিনা হাসপাতালে ভর্তি হয় সেখানে কয় দিন থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হলে তিনি বাড়ীতে চলে আসেন এর কয়দিন পর আবার শুরু হয় রক্ত পড়া এভাবেই কখনো ৭ দিন পর কখনো ১৫ দিন পর আবার কখনো বার ১ মাস পর পর রক্ত পড়তেই থাকে।

পরে বুঝতে পারেন চিকিৎসায় বন্ধ হয়না আসলে এটা নিয়ম মাফিক কয়দিন বন্ধ থাকে আবার শুরু হয়। এর পর নতুন করে চুলের গোঁড়া দিতে রক্ত পড়া শুরু হলে ঢাকা গিয়ে আবারো নতুন করে ডাক্তার দেখান ডাক্তার ১৪ টি টেস্ট করে তার রিপোর্ট দেখে জানান, কিছুই বুঝা যাচ্ছে না কিছু দিন পর্যবেক্ষণে থাকলে হয়ত বুঝা যাবে কিন্তু আর্থিক কারণে রুমানা আবার চলে আসেন নিজের বাড়িতে।

এদিকে গত ঈদের কিছুদিন আগে শুরু হয় চোখ দিয়ে রক্ত পড়া তখন আবারো ঢাকা যান এবং ডাক্তার দেখান। ডাক্তার তখন মাদ্রাজ গেলে হয়ত চিকিৎসা মিলবে বলে জানান। গত দুই মাসে মোট ৩ জন ডাক্তারকে দেখান তাদের সবার অভিমত হচ্ছে ভারতের মাদ্রাজ গেলে হয়ত চিকিৎসা মিলবে।

পিতৃহীন রুমানা যেখানে মাকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে সেখানে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করার মত আর্থিক সামর্থ্য নেই তাই কোন হৃদয়বান ব্যক্তি যদি এগিয়ে আসেন তবেই ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে হয়ত সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবেন বলে আশা রুমানার।

রুমানা জানান, সবাইকে জানাতে চাইনি তবু জীবনের প্রয়োজনে জানাতে হচ্ছে, মাকে নিয়ে যেখানে সংসার চালাতে  হিমশিম খাচ্ছি সেখানে কিভাবে ভারত যাব। যদি সরকার বা কোন হৃদয়বান ব্যক্তি আমার পাশে মমতার হাত দিয়ে দাঁড়ান তবেই হয়তো এই জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারব।

রুমানার মা জানান, যেভাবেই হউক যে করেই হউক আমার মেয়েকে সুস্থ দেখতে চাই। দেশে বৃত্তবান মানুষের অভাব নেই তাদের মধ্যে একজন নিশ্চয়ই আছে যে এই অসহায় মায়ের ডাক শুনে তার সন্তানের পাশে দাঁড়াবে

আপনার মন্তব্য

আলোচিত