২৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:৩৭
বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে গ্রাহকদের করণীয় বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)-এর উদ্যোগে দুইদিন ধরে ব্যাপক মাইকিং করা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ অক্টোবর) ও বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পবিস কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলার সবগুলি হাটবাজারসহ প্রতিটি গ্রামে এই মাইকিং করা হয়।
মাইকিং প্রচারণায় গ্রাহকদের বলা হয়, রাতে আকস্মিকভাবে বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রাহকদের দ্রুত ঘরের বাইরে বের হয়ে প্রথমে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে যুক্ত ট্রান্সফরমার আছে কিনা তা দেখতে হবে। তাছাড়া একটু সতর্কতার সাথে নিজ উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। তা হলে ট্রান্সফরমার চুরি অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে।
পবিস কমলগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের এজিএম (কম) মো. উবায়দুল হক বলেন, স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে রাতের আঁধারে খুঁটির বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি। ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহকদের টাকা দিয়ে আবার নতুন ট্রান্সফরমার কিনে প্রতিস্থাপন করতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুই দিকে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আগে প্রতি মাসেই গড়ে ৫ থেকে ৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হত। মাঝে ট্রান্সফরমার চুরি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি আবার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়ন আদমপুর ইউনিয়ন এলাকায় আবার ট্রান্সফরমার চোর চক্র সক্রিয়। তাই জনসচেতনতায় গ্রাহকদের অংশগ্রহণে ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে এই মাইকিং করা হচ্ছে।
পবিস কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মোবারক হোসেন সরকার বলেন, স্বল্প জনবল দিয়ে পবিসের পক্ষে ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। গ্রাহকরা একটু সতর্ক ও সচেতন হলেই ট্রান্সফরমার চুরি সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রাহকরা বের হয়ে খুঁটির ট্রান্সফরমার আছে কিনা তা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দেখে নিতে পারেন। এতে ট্রান্সফরমার সম্পর্কে তথ্য জানা যায় তার সাথে ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনে কোন সমস্যা হল কিনা তাও জানা যায়। রাতে গ্রাহক বা এলাকাবাসী এভাবে সতর্ক ও সচেতন হলেই ট্রান্সফরমার চুরি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ সম্ভব। তাই গত কয়েকদিন ধরে সহযোগিতা কামনা করে গ্রাহক সচেতনতায় এই মাইকিং করা হচ্ছে।
এই মাইকিং এর ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলেও পবিস কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মোবারক হোসেন সরকার জানান।
আপনার মন্তব্য