সিলেটটুডে ডেস্ক

২৮ জুলাই, ২০১৫ ১৪:৩০

স্মৃতিসৌধের দাবিতে স্মারকলিপি

সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘরসহ স্বাধীনতার স্মৃতিস্মারক ‘স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ সহস্রাধিক গণস্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি প্রদান করেছে শিশু কিশোর মেলা সিলেট জেলা শাখা। 

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এক র‍্যালি বের করে সংগঠনটি। র‍্যালিটি শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে জিন্দাবাজার-বন্দরবাজার হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংহতি সমাবেশে মিলিত হয়। 

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী সবাই ‘সিলেটে স্মৃতিসৌধ চাই’, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে চাই’সহ নানা দাবি সম্বলিত ফেস্টুন বহন করে।

প্রখর রোদের মধ্যে শত শত স্কুল শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল র‍্যালি, দাবির পক্ষে স্লোগান শুনে পথচারিদের অনেকেই করতালির মাধ্যমে দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

সিলেটে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচী সফল করার লক্ষ্যে নগরীর পাড়ায়-মহল্লায়, দোকান পাটে, অফিস আদালতে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মাসাধিককাল ধরে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শিশু কিশোর মেলার সংগঠক রুবাইয়াৎ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং লিপন আহমেদের পরিচালনায় র‍্যালি পরবর্তী সংহতি সমাবেশে সংহতি বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র পাল, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী, বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়, খেলাঘর সিলেট বিভাগীয় সম্পাদক তাজুল ইসলাম বাঙ্গালী প্রমুখ।

সংহতি বক্তব্যে বক্তারা শিশু কিশোর মেলার দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে বলেন, ‘‘ সিলেটের কারাগার অতি দ্রুত স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে। এ স্থানটি হতে পারে সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনসহ বাঙালি জাতির গৌরবগাঁথা মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর এবং স্বাধীনতার স্মৃতিস্মারক “স্মৃতিসৌধ”।

৩০ লক্ষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং আগামী প্রজন্মের কাছে অতীতের সংগ্রামী ইতিহাস তুলে ধরতে হলে সিলেটে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ খুবই যৌক্তিক। তাই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের জনতাকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’’

সংহতি সমাবেশ শেষে রুবাইয়াৎ আহমেদ, লিপন আহমেদ, সাদিয়া নোশিন তাসনিম, ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, ইয়াসিন আলী ইমন প্রমুখের নেতৃত্বে শিশু কিশোর মেলার প্রতিনিধি দল সিলেটের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের প্রায় ১০ সহস্রাধিক লোকের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আই.সি.টি) মিরাজুল ইসলাম উকিল স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত