সিলেটটুডে ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২১:২৫

আমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে, অভিযোগ মুক্তাদিরের

সিলেট-১ আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার ততই বুঝতে পারছে, তাদের পায়ের নীচে মাটি নেই। তারা জনবিচ্ছিন্ন-জনসমর্থনহীন। তারা বুঝতে পেরেছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর এই সরকারের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করার প্রত্যাশায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে জনতার ঢেউ নামবে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে আওয়ামী লীগ এখন পোড়া মাটি নীতি গ্রহণ করেছে। তারা ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট ডাকতির প্রস্তুতি চুড়ান্ত করেছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে সিলেটে গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে ক্ষমতাসীন সরকার। শুধু গ্রেপ্তার নয়, ধানের শীষের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। তাদের বাধার কারণে সোমবার সিলেটে কোনরূপ প্রচারণা করতে পারিনি।

আমাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, রোববার রাতে ৩ দফায় তিনটি সভাস্থল থেকে আমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে সাদা পোষাকের পুলিশ। কৌশলে আমি গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছি।

সোমবার বিকেলে আম্বরখানান্থ তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে সিলেট-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব অভিযোগ করে জানান, গত দু’দিনে বিএনপি ও ২৩ দলের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসময় তিনি গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকা তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। তাঁর তালিকা অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন- সিলেট মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি মুফতি বদরুন নুর সায়েক, হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি নেতা আজির উদ্দিন, মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার, জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ওলিউর রহমান ডেনি, মহানগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, ১৬ নম্বর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুম্মান আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি বেলাল আহমদ, যুবদল নেতা গাজী লিটন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মীর্জা জাহেদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষ্ণঘোষ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহজাহান আহমদ, কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চমক আলীর পুত্র সোহেল আহমদ, ছাত্রদল নেতা জাহেদ আহমদ, সোহেব খান, তানজিল আহমদ, ১৬ নং ওয়ার্ড জাসাসের সাধারণ সম্পাদক রুমান খান, বিএনপি কর্মী হাবিবুর রহমান ডালিম, খোরশেদ আলম প্রমুখ।

তিনি আরো জানান, এদেরকে গ্রেপ্তার করা ছাড়াও প্রতিটি সেন্টার কমিটির সভার পর পরই পুলিশ ঐ এলাকায় হানা দিয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাদেরকে না পেয়ে ৩০ তারিখে এলাকায় না থাকার জন্য পরিবারকে হুমকী দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি একেএম তারেক কালাম, খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন, টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ আহমদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশীর নামে ভাংচুর চালিয়েছে পুলিশ। গত দু’দিনে শাহপরাণ, জালালাবাদ, এয়ারপোর্ট ও দক্ষিণ সুরমা থানায় আরো ৪টি গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানায় বিএনপির ৫৭ জন নেতাকর্মীকে আসামী কর হয়েছে। শাহপরাণ থানার গায়েবী মামলায় খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাজাহারুল ইসলাম ডালিমসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ সাদা পোষাকে সোমবার দুপুরে সদর থানা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করতে গেলে জনতার প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। ৎ

তিনি বলেন, জনতার প্রতিরোধের মুখে স্বৈরাচারী কোনদিনই টিকে থাকতে পারেনি। এবারও পারবে না। যত বাধাই আসুক ৩০ ডিসেম্বর আমরা মাঠে থাকবো। দলে দলে জনতা ধানের শীষে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে। জনতার এই বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারকে প্রতিরোধের শক্তি এই সরকারের নেই। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। সিলেট-১ আসনের ভোটারদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। সকল ভয়কে জয় করে আপনারা ভোটকেন্দ্রে আসুন। সারাদিন ভোট দিন। বিকেলে ভোটের ফলাফল জেনে হাসিমুখে ঘরে ফিরবেন, ইনশাআল্লাহ।

আইন শৃংখলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা দেশের মানুষের সেবক। জনগণের সেবার সুযোগ সবাই পায়না- আল্লাহ আপনাদের সেই সুযোগ দিয়েছেন। নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে পরকালের কথা চিন্তা করে রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে সৎভাবে দায়িত্ব পালন করুন। আপনারা জনগণের সাথে থাকুন। অন্যথায় জনগণের কাছে আপনার চিরনিন্দিত হয়ে থাকবেন। শাহজালাল (র.), শাহপরাণ (র.)-এর মাটিতে যারাই অপকর্মের চেষ্টা করবেন- তাদের পরিণতি হবে চরম গ্লানিকর ও অপমাণজনক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেক, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বদর, মহানগর বিএনপি নেতা ডাঃ আশরাফ আলী, মাজহারুল ইসলাম ডালিম, এডভোকেট সাঈদ আহমদ, আফম কামাল, এডভোকেট আব্দুল মালেক প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত