২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:২৯
সিলেটের রাজনীতিতে সম্প্রীতির ঐতিহ্য বেশ পুরনো। এখানে রাজনীতির মাঠে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ব্যক্তিগত ভাবে পরষ্পরের সাথে হৃদ্যতার সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি সিলেটের রাজনীতির ঐতিহ্য। কিন্তু এবার মুখে সম্প্রীতির কথা বলললেও মাঠে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।
সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. একে আব্দুল মোমেন ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদিরের কর্মীসমর্থকদের একের পর এক হামলা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও মামলা-গ্রেপ্তারের অভিযোগে সম্প্রীতির শহরেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে এবারের নির্বাচন।
অবশ্য পোস্টার ব্যানার-ফেস্টুনেও এখনও সম্প্রীতির নজিরই মিলছে। নগর আর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে নৌকা আর ধানের শীষের ফেস্টুন, ব্যানার, পোস্টার।
তবে গত কয়েকদিনের বিভিন্ন নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর এবং পুলিশের গ্রেপ্তারের ঘটনায় শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শেষ মুখের সম্প্রীতি মাঠেও বজায় থাকবে কী না এ নিয়ে শঙ্কিত ভোটাররা।
কেবল ভোটার নয়, এমন শঙ্কায় খোদ প্রার্থীরাও। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. আব্দুল মোমেন আর বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদির প্রতিদিনই বিভিন্নস্থানে গণসংযোগকালে সিলেটের সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট না করতে প্রতিদ্বন্দ্বিদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।
তবে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম মনে করেন, সিলেটে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলের প্রার্থীই প্রচার চালাতে পারছেন যার যার অবস্থান থেকে। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।
এদিকে, গত কয়েকদিনের অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা আর প্রধান দুই দলের প্রার্থীর পাল্টাপািল্ট অভিযোগে সিলেটের সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা।
শিক্ষানবিশ আইনজীবী ইমরান আহমদ বলেন, সিলেটে সম্প্রীতির ঐতিহ্য বেশ পুরনো। তবে এবারের নির্বাচনের মাঠে হামলা-মামলা আর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবার হতে পারে মানুষের সিম্পেথি আদায়ের জন্য এটি প্রার্থীদের একটি বিশেষ কৌশল।
সোমবারও নিজের একাদিক নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর ও কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করেন ড. আব্দুল মোমেন। রোববারও শাহপরান এলাকায় তাঁর কার্যালয় ভাংচুর করা হয়।
আর সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে খন্দকার মুক্তাদির অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীদের আটকের মাধ্যমে হয়রানি করছে পুলিশ। গায়েব মামলা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এমন কোন থানা নেই যেখানে প্রতি রাতে কর্মীদের আটক করা হচ্ছে না। এমনকি একটি সেন্টার কমিটি করতে গেলে সেখানেও হুকমি ধামকি দিয়ে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবুও জনসমর্থন তাঁর সাথে রয়েছে বলে জানান ধানের শীষের এ প্রার্থী।
আপনার মন্তব্য