নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ মে, ২০২৫ ১৮:৫৯

বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে কাজী ইব্রাহিমকে ‘তাকফির’ ঘোষণা করবেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

আলোচিত-সমালোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি কাজী ইব্রাহিমের বক্তব্যকে ‘কুফরি’ আখ্যা দিয়ে তাকে তওবা করার ‘নির্দেশ’ দিয়েছেন তাহরিকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশের আমির ও ইসলামি বক্তা সৈয়দ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী।

সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলের বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, সেখানে মুফতি কাজী ইব্রাহিম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘আল্লাহ মনোনীত নেতা’ বলে আখ্যা দেন। বক্তব্যে কাজী ইব্রাহিম মুহাম্মদ ইউনূসের বিরোধিতা করা ‘হারাম’ বলেও মন্তব্য করেন।

কাজী ইব্রাহিম বলেন, ‘ড. ইউনূস নির্বাচিত হয়ে আসেননি, মনোনীত হয়ে এসেছেন। এখন আর নির্বাচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তাকে মনোনীত করে বসিয়ে দিয়েছেন। আমরা সবাই তাকে মনের সমর্থন দিয়ে দিয়েছি, ভোট দিয়েছি হৃদয় থেকে। এই নির্বাচন হয়েছে আসমানে’।

তিনি আরও বলেন, ‘আসমানের মনোনয়ন আর জমিনের সমর্থন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে খেলাফত হয়, নবুয়ত হয়। সব নবীই আল্লাহর মনোনীত ছিলেন, কেউই ভোটে নির্বাচিত হননি’। তিনি বলেন, ‘এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী যেমন এসেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসও সেভাবে এসেছেন’।

এদিকে, মুফতি কাজী ইব্রাহিমের এমন একাধিক বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সৈয়দ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর নামে ‘আব্বাসী মনজিল জৈনপুর’ পেইজে এই ‘নির্দেশ’ দেওয়া হয়। এজন্যে তারা তিনদিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন, অন্যথায় মৌখিকভাবে মুফতি ইব্রাহিমকে ‘তাকফির’ অর্থাৎ এক মুসলিম কর্তৃক অন্য মুসলিমকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ফেসবুক পোস্টে সৈয়দ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখিত ও মর্মাহত। সম্প্রতি মুফতি কাজী ইব্রাহিমের একটি বক্তব্য; আমাদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। বহু আগ থেকেই তার বক্তব্যের মধ্যে উন্মাদনা ও পাগলামি ফুটে উঠছে। কখনো বলেছে, করোনার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে স্বপ্নে। আবার কখনও ঘোষণা দিয়েছে, অমুক সালে ইমাম মাহদির প্রকাশ ঘটছে। এগুলোকে আমরা নিছক পাগলামি, উন্মাদনা বা বালখিল্য বলেই মনে করেছি। যদিওবা সে একটি বিতর্কিত ঘরানার লোকের কাছে গ্র্যান্ড মুফতি”।

এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, “ড. ইউনুস প্রসঙ্গে সম্প্রতি তার যে বক্তব্য, তা সুস্পষ্ট কুফর হয়েছে; যা আক্বিদা খাতমে নুবুওয়্যাতের বিপক্ষে যায়। আল্লাহ তা'য়ালা যেভাবে নাবী ও রাসূলগণকে নির্বাচন করতেন, সেইভাবে নির্বাচন করার রীতি আল্লাহ তা'য়ালা দেড় হাজার বছর আগে বন্ধ করে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ তার আখেরি নাবী মুহাম্মাদ মোস্তফা ﷺ কে দেড় হাজার বছর আগে প্রেরণ করে নুবুওয়্যাত ও রিসালাতের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছেন। দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। অতএব, নুবুওয়্যাতের মাধ্যমে নাবী প্রেরণের যে পদ্ধতি আল্লাহ্‌ গ্রহণ করতেন, সেই পদ্ধতি তো আল্লাহ তা'য়ালা রহিত করে দিয়েছেন দেড় হাজার বছর আগেই।

তিনি আরও বলেন, “অতএব, ড. ইউনুসকে আল্লাহ নেতা হিসাবে নির্বাচন করেছেন এবং নাবী ও রাসূলগণকে আল্লাহ যেভাবে নির্বাচন করতেন, সেভাবে করেছেন; তার এই বক্তব্য সুস্পষ্ট কুফর। তার এই কুফরটা "কুফর বাওয়াহা"। সেজন্য আমরা স্পষ্টভাবেই ঘোষণা করছি, মুফতি কাজী ইব্রাহিম সাহেবের উক্ত বক্তব্যটি কুফর হয়েছে। তাই আমরা তিন দিন অপেক্ষা করব। তিন দিনের মধ্যে সে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে যদি প্রকাশ্য তওবা না করে, তাহলে আমরা মৌখিকভাবে তাকফির হওয়ার ঘোষণা করব”।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত