রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:২২

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি ১০ এমবিপিএস

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন ডাউনলোড গতি ১০ মেগাবিট পার সেকেন্ড (এমবিপিএস) বেঁধে দিয়েছে। অন্যদিকে আপলোডের গতি থাকতে হবে এক এমবিপিএস।

‘এএনএস অপারেটরস কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ নামের এক বিধিমালায় এই সর্বনিম্ন গতি বেঁধে দেওয়া হয় বিটিআরসির।

এটি প্রথমে ১১ নভেম্বর জারি করা হয়েছিল। সেখানে ব্রডব্যান্ডের গতি নির্ধারণ করা ছিল না। পরে নতুন করে ব্রডব্যান্ডের গতি বেঁধে দিয়ে ৯ ডিসেম্বর নতুন করে বিধিমালাটি জারি করা হয়।

নতুন বিধিমালায় বলা হয়, এক মাসের গড় হিসাব ধরে ব্রডব্যান্ডের গতি ঠিক আছে কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে সরকার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি ৫ এমবিপিএস নির্ধারণ করেছিল।

বিটিআরসি নতুন বিধিমালা জারি করায় টেলিফোন, মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ন্যূনতম একটি মান নির্ধারিত হলো।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত মানদণ্ড না মানলে অপারেটরদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এত দিন এসব বিষয় শুধু গাইডলাইন ও নির্দেশনার মধ্যে ছিল। এবার তা বিধিমালার মধ্যে এল।

নতুন বিধির আওতায় অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস বা এএনএস অপারেটরদের (মোবাইল, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবাদাতা) নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় মোবাইল ফোনের সফল কলের হার কমপক্ষে ৯৭ শতাংশ, কল ড্রপের হার ২ শতাংশের কম, সফল খুদে বার্তার হার ৯৮ শতাংশের বেশি, ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি টু–জির ক্ষেত্রে ৮০ কেবিপিএস (কিলোবিট পার সেকেন্ড), থ্রি–জির ক্ষেত্রে ২ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) ও ফোর–জির ক্ষেত্রে ৭ এমবিপিএস হতে হবে। কল–সংযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সময় ৭ সেকেন্ড।

উল্লেখ্য, ফোর–জি লাইসেন্সের গাইডলাইনে ৭ এমবিপিএস গতির কথা বলা হয়েছিল, যা এখন বিধিমালায় এল।

টেলিফোন সেবার ক্ষেত্রে কল ড্রপ, কল সফল ও কল–সংযোগের সময় মুঠোফোন অপারেটরদের মতোই।

মুঠোফোন অপারেটরগুলো বলছে, বাংলাদেশে কল ড্রপ কম ও ইন্টারনেট–সেবাও বেশ ভালো। এটা আরও উন্নত করতে নানা সমস্যা রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে অপারেটরদের আওতার বাইরে।

বিধিমালায় আরও অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ের কথা উল্লেখ আছে। কথা কতটুকু পরিষ্কার শোনা যায়, তা মানের ভিত্তিতে পাঁচটি ভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অপারেটরকে পাঁচের মধ্যে সাড়ে তিন নম্বরের ওপর পেতে হবে। এ ছাড়া কাস্টমার কেয়ারে ৯০ শতাংশ কল ৪০ সেকেন্ড ও শতভাগ কল ৯০ সেকেন্ডে ধরা এবং গ্রাহকের ৯০ শতাংশ অভিযোগ পাঁচ দিনের মধ্য নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিধিমালায়।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে অক্টোবর মাস শেষে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৬৪ লাখ। ৯০ দিনের মধ্যে কেউ কোনো সিম ব্যবহার করে কথা বলা, খুদে বার্তা পাঠানো অথবা ইন্টারনেট ব্যবহার করলে তাকে একজন ব্যবহারকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। এক একটি সক্রিয় সিমকে একজন ব্যবহারকারী হিসেবে গণ্য করা হয় এ হিসাবে।

একই হিসাবে, অক্টোবর শেষে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ কোটি ২৫ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ৬৭ লাখ মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। বাকিরা অন্যান্য মাধ্যমে ইন্টারনেট–সেবা নেয়। এ ক্ষেত্রেও ৯০ দিনে একবার ইন্টারনেটে প্রবেশ করলে তাকে ব্যবহারকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে মুঠোফোন গ্রাহকদের জন্য ফোর–জি সেবা চালু হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত