সিলেটটুডে ডেস্ক

২৫ আগস্ট, ২০২৫ ২২:০৭

নিউ ইয়র্কে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজকে হেনস্তা, লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে প্রবেশের সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দিকে ডিম ও পানির বোতল ছুড়েছে নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীরা।

মাহফুজ আলমকে ‘প্রতিরোধ করতে’ জড়ো হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পরে সরিয়ে দিয়েছে নিউ ইয়র্কের পুলিশ।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ছিলেন ওই আয়োজনের প্রধান অতিথি।

এ খবর জেনে আগের দিনই মাহফুজ আলমকে ‘প্রতিরোধের’ কর্মসূচি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। সে অনুযায়ী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কনস্যুলেট অফিসের আশপাশে অবস্থান নিয়ে দলীয় পতাকা হাতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকেন।

তথ্য উপদেষ্টা সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাড়ি থেকে নেমে কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের সময় তাকে লক্ষ্য করে পানির বোতল এবং ডিম ছুড়ে মারা হয়। এক পর্যায়ে একজনের লাথিতে কনস্যুলেটের কাচের দরজাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ভেতরে ঢোকার পরও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তেজনার মধ্যে কনস্যুলেটের টেলিফোন পেয়ে নিউ ইয়র্ক পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয় এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ছাড়াও সামাদ আজাদ, আবুল হাসিব মামুন, মহিউদ্দিন দেওয়ান, হাজী এনাম, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, ইমদাদ চৌধুরী, এম এ করিম জাহাঙ্গির, শাহানারা রহমান, মমতাজ শাহানা, খান শওকত, দরুদ মিয়া রনেল, জাহিদ খান, হৃদয় খানকে ঘণ্টা তিনেকের এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা তার বক্তৃতায় বলেন, “একটা দেশে রাজতন্ত্র চলছিল, সে দেশের রাজা ছিলেন, রাজার বোন ছিলেন, রাজার ছেলে-মেয়েরা রাজপুত্র ছিলেন। পুরো দেশটা তাদের ছিল।

“আপনারা ছাত্র-জননেতারা রক্ত দিয়ে সেই রাজার পতন ঘটালেন, দেশ থেকে বিতাড়িত করলেন, এখন সে একটা ডিম নিক্ষেপ করবে, সে একটা কটূক্তি করবে, মাহফুজ আলমের পতন চাইবে, এটাই তো স্বাভাবিক।”

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, “জুলাই সনদে প্রবাসীদের অবদান উল্লেখ থাকবে। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অংশীজন নই। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তারা জুলাই চেতনাকে ধারণ করে দেশ পরিচালনা করবেন। দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক হবে রাষ্ট্র।

“নিজের রাজনৈতিক চেতনার চেয়ে দেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। সবার ঊর্ধ্বে দেশকে এবং দেশের জনগণকে যেন আমরা রাখি।”

পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন বাংলাদেশে ভারতীয় টেলিভিশন অথবা গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমি কোনো কিছু বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নই। আমি সব সময় বিকল্প ভালোর কথা বলে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের কোনো কিছুও বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নই।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনিই প্রশ্নোত্তর পর্বের সঞ্চালনা করেন। শেষ দিকে প্রশ্নোত্তর পর্বে কিছুটা হট্টগোল হয়।

বিএনপি, এলডিপি, জাতীয় পার্টির লোকজন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন। ডিনার শেষে স্থানীয় সময় রাত ১২টার পর নিউ ইয়র্ক পুলিশের পাহারায় উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কনস্যুলেট অফিস থেকে বেরিয়ে যান।

সরকারি সফরে ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন মাহফুজ আলম।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত