মনোয়ার পারভেজ

২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:১১

শিক্ষক: সমাজের আলোকবর্তিকা, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

“যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়ি বাড়ি যায়/ তথাপি তাহার নাম নিত্যানন্দ রায়”; এর অর্থ হলো—আমার গুরু অর্থাৎ শিক্ষক যতই ভুল বা অপ্রীতিকর কাজ করুন না কেন, তাঁর প্রতি আমার ভক্তি ও শ্রদ্ধা একই থাকবে। তিনি ‘নিত্যানন্দ রায়’ বা নিত্যানন্দ নামের (একজন মহান ব্যক্তি জ্ঞাতার্থে) মতোই পবিত্র ও শ্রদ্ধেয়। শিক্ষক শুধু একটি শব্দ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শসমাজ তৈরির কারিগর, আলোকবর্তিকা। অর্থাৎ শিক্ষক মানেই নিত্যানন্দ রায়ের আসনে থাকবেন। তাদের প্রতি থাকবে আমাদের অঢেল সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ। তবুও আমরা নিত্যানন্দ রায়ের মতো শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারছি না।

আবার বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক মাত্রই নিত্যানন্দ রায় তা-ও সত্য নয়। কেননা অনেক শিক্ষক নিত্যানন্দ তো হতে পারেনই না, বরং জড়িয়ে পড়েন নানা অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডে। সুতরাং এই লেখাটি মূলত এই দুটি প্রশ্নের উপর দাঁড়িয়ে, কেন আমরা নিত্যানন্দ রায়ের মতো শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারছি না? আবার শিক্ষকরাই বা কেন এমন অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন?

বিবেকের ঘরে ‘কতিপয়’ শিক্ষক; দায় কার?
ফরাসি লেখক ভলটেয়ার বলেছিলেন “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।” একথা আমাদের সকলেরই প্রায় মুখস্থ করা। এছাড়াও উইল এন্ড এরিয়াল ডুরান্ট আরেকটি কথা বলেছিলেন, “শিক্ষা হলো সভ্যতার রূপায়ন।” সুতরাং শিক্ষা যেভাবে মেরুদণ্ড সোজা করে বেঁচে থাকতে শেখায়, তেমনি সামাজিক সভ্যতাও আসে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হাত ধরেই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলে কেউ সভ্যতা শিখতে পারবে না তা-ও পুরোপুরিভাবে স্বীকার করছি না। মানুষ প্রকৃতি থেকেও অনেক কিছু শিখে। তাই প্রকৃতিও অনেকের কাছে শিক্ষক সমতুল্য। এই শিক্ষা যারা দান করে থাকেন উনারাই হচ্ছেন আমাদের মহান শিক্ষক; অর্থাৎ শিক্ষাগুরু। সুতরাং বলা যায় মেরুদণ্ডের রূপরেখা সোজা করে দাঁড় করিয়ে দেন আমাদের এই মহান শিক্ষকেরা। কিন্তু এই মহান শিক্ষকের স্থানে যখন কতিপয় অসাধু লোকজন এসে অ-শিক্ষামূলক কার্যকলাপ করে বসেন, তখনই প্রশ্নের মুখে পড়ে মহান ‘শিক্ষক’ নামক পেশাটি। অথচ শিক্ষকতা কোনো পেশা নয়, এটি একটি ব্রত। তবে এটাও সত্য, সবাই কিন্তু নেতিবাচক হয় না। কিন্তু দুয়েকজন নেতিবাচক শিক্ষকের জন্য দায়ী হতে হয় পুরো শিক্ষকসমাজকে। কিন্তু এর দায় কি পুরো শিক্ষকসমাজের? অবশ্যই না। দায় হতে পারে ব্যক্তির, দায় হতে পারে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর।

আমার এ অংশের লেখাটি মূলত কিছু নেতিবাচক মানুষদের নিয়ে, আমি এখানে ‘শিক্ষক’ বললাম না। কেননা যারা কাগজপত্রে নামের পাশে মহান ‘শিক্ষক’ শব্দটি যোগ করলেও, মনস্তাত্বিক ভাবে তার যোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি কখনও। এই যেমন হুমায়ূন আহমেদের ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসে আমরা এক শিক্ষক নামের কাপুরুষের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। এই রকম শিক্ষক আমাদের দেশে অহরহ আছেন। না হলে কী খবরের কাগজে পড়তে হয়, ‘শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ’, ‘দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার শিক্ষক’, ‘জালিয়াতির দায়ে আদালতে শিক্ষক’ এমন খবরাখবর! এরকম যারা এই মহান পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ঘাপটি মেরে বসে আছে। এরা শুধুমাত্র নামেই শিক্ষক, গুণে-মানে শিক্ষক হতে পারেনি। কেননা ভালো পড়াতে পারা মানেই ভালো শিক্ষক নয় আসলে। ভালো পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাথে কতটা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন করা যায় সেখানেই প্রকাশ পায় একজন ভালো শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য। এই অন্তরঙ্গ বলতে আবার শিক্ষার্থীদের সাথে প্রেম-ভালোবাসা করা নয়। প্রেম-ভালোবাসা খারাপ কিছু নয়। তবে আমরা সাধারণত প্রেম বলতে যা বুঝি সেখানে (ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে) কিছু নেতিবাচকতা আছে। এই প্রেম মানে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে বোঝাপড়া, সরল ভাবে তাদেরকে বুঝানো ও তাদের সাথে মিশতে পারা, শিক্ষার্থীরাও যেন অকপটভাবে শিক্ষকের কাছে তার সমস্যার কথা বলতে পারে এমন সম্পর্ক তৈরি করা। কিন্তু এমন শিক্ষক আমাদের খুব কমই আছেন!

একজন শিক্ষকের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ও গুণ থাকতে হয়। তার মধ্যে তাকে শিষ্টাচার, ক্ষমাশীল ও কর্তব্যপরায়ণ হতে হয়। এই তিনটি শব্দের প্রথম তিনটি অক্ষর যুক্ত হয়েই হয় একজন ‘শিক্ষক’। আর শিক্ষকের ইংরেজি শব্দ ‘Teacher’ থেকে যদি কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ও গুণ দেখি তাহলে সেগুলো দাড়ায় -
T - Truthful (সত্যবাদী)
E - Educated (শিক্ষিত)
A - Active (সক্রিয়)
C - Character (চরিত্রবান)
H - Honest (সৎ)
E - Energetic (উদ্যোগী)
R - Responsible (দায়িত্ববান)
যে শিক্ষকের কাছে এই বৈশিষ্ট্য ও গুণগুলো আছে তিনিই প্রকৃত শিক্ষক। এবং এগুলো থাকার ফলে বিবেকের তাড়নায় তিনি কোনো ভুল করতে পারেন না, অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড করতে পারেন না। ভুল করতে গেলেও একশো বার ভাবতে হবে তাকে। আসলে তখন ভুল হওয়ার পথেই তৈরি হওয়ার কথা নয়। এরকম শিক্ষকও অবশ্য উদাহরণে অনেক আছেন। কিন্তু এই সংখ্যাটা বাড়ার বদলে দিন দিন কমছে বৈকি বাড়ছে না!

এখন কথা হচ্ছে শিক্ষকতা পেশায় নামেমাত্র শিক্ষক (কু-শিক্ষক) আসেন কিভাবে? আগেই বলেছি শিক্ষকতা একটি ব্রত। এই ব্রত নিয়ে যারা আসেন তারা শিক্ষকতা নিয়ে ভালো করে জেনে, বুঝেই আসেন। এবং সেখানে পেশার প্রতি তাদের প্রেম, ভালোবাসা, দায় ও কর্তব্য নিয়েই আসেন। কৌতূহল ও আগ্রহের জায়গা থেকে কাজ করেন। কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষকই আসেন ব্রত নিয়ে। বেশিরভাগেই আসেন রুটি-রুজির সন্ধানে আর সমাজে একটা অবস্থান তৈরি করতে। যারা জানেন না, ব্রত কী? শিক্ষকতার মানে কী? যখন তাদের কোনো বৃত্তিই (শেকড়) নেই, তখন আদর্শ বলতেও কিছু থাকে না। আর তাদের দ্বারাই এহেন কর্মকাণ্ড ঘটে। কিন্তু রাষ্ট্র তো এদের চিহ্নিত করতে পারছে না। এবং তাদের নিয়োগও আটকাতে পারছে না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তিও তাদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাহলে তাদের দ্বারা ভুল ও অপকর্মের দায় পুরো শিক্ষকসমাজের হবে কেন? এর দায় কোনোভাবেই পুরোপুরি শিক্ষকসমাজের নয়। তাই রাষ্ট্রকে চিহ্নিত করতে হবে কে শিক্ষক আর কে কু-শিক্ষক। ব্রতী শিক্ষক হিশেবে যারা আছেন তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে তরুণদেরও এ বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্র কি এই কাজটা হাতে নেবে? বা এদিকে দেখার তার সময় আছে? আসলে দায় পুরোপুরি আবার রাষ্ট্রেরও নয়। রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যারা থাকেন, রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা যারা দায় তাদেরও।

শিক্ষকদের মর্যাদায় কার্পণ্য কেন?
শিক্ষাই যদি একটি রাষ্ট্রের দাঁড়িয়ে থাকার অন্যতম অবকাঠামো হয়ে থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রের এবং সমাজের বিবেক বা বাতিঘর হচ্ছেন শিক্ষকসমাজ। কারণ, শিক্ষক ছাড়া যেমন শিক্ষা অপূর্ণ, তেমনি গুরুদক্ষিণা ছাড়াও শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। গুরুদক্ষিণা বলতে শুধু অর্থ নয়, এর নানা উপক্রম আছে। কথা হচ্ছে এই শিক্ষকদের আমরা ও আমাদের রাষ্ট্র কতটুকু মর্যাদা দিচ্ছে। ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিবসকে কেন্দ্র করে অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের বাংলাদেশেও এটি পালন করা হয়। অথচ যেদেশে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের জন্য দিনের পর দিন রাস্তায় কাটাতে হয়, আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়, নানাভাবে অপমান ও অপদস্থ হতে হয়, পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হতে হয়, সেই দেশে ‘শিক্ষক দিবস’ পালন করা এক প্রকার প্রহসন ছাড়া কিছু নয়! এই কথাটা ক্ষোভ ও আফসোসের সুরেই বলতে হয়।

একটু কাছাকাছি সময়ের গল্প বলি। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পতিত সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি সেক্টরে যখন সংস্কারের দিকে মুখিয়ে ছিল ছাত্র-জনতা। তখন ছাত্ররা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নেতিবাচক শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে একটা হিড়িক তুলেছিল। তবে এখানে ছাত্রদের জন্য একটা বার্তা চোখে পড়েছে। সেটা হচ্ছে, সকল শিক্ষক যেমন প্রকৃত শিক্ষক নয়। সকল শিক্ষক নীতি, নৈতিকতার দিক থেকেও ইতিবাচক হতে পারে না। যেটা আমার উপরের আলোচনায় বলেছি। কতিপয় নেতিবাচক শিক্ষকদের কর্মকাণ্ডে শিক্ষক সমাজ আজ প্রশ্নের সম্মুখীন, এটাও সত্য। তাদেরকে অপসারণের দাবী অবশ্যই আপনারা তুলতে পারেন। তবে এই পদত্যাগ হিড়িকে আপনারা শিক্ষকদের যেভাবে লাঞ্ছিত, অপমান এমনকি গায়ে হাত দেওয়ারও যে সংস্কৃতি শুরু করেছেন এটা আপনাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের কথা যদি বাদও দেই, দেখবেন আপনাদের পরবর্তী প্রজন্মই আপনাদেরকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করবে। কারণ, তারা যখন শিক্ষক সমাজের অংশ হিশেবে প্রতিষ্ঠিত তখন তাদেরকে এভাবে অপমান করা পুরো শিক্ষকসমাজের জন্যেই অপমানজনক। আপনারা দাবী উত্থাপন করবেন। উপযুক্ত প্রমাণ সহকারে কর্তৃপক্ষের কাছে যাবেন। দাবী আদায় না হলে সর্বোচ্চ আন্দোলনে যেতে পারেন। গায়ে হাত দেওয়ার সাহস কিভাবে করতে পারলেন আপনারা? যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি শিক্ষক পদে বহাল ছিলেন। এমনকি আমরা দেখেছি যাদেরকে অপসারণ করা হয়েছে তাদের সবাই কিন্তু নেতিবাচক শিক্ষক ছিলেন না। একটা হিড়িক হিশেবে আপনাদের আবেগ তখন কাজ করছিল শিক্ষকের অপসারণ। যে শিক্ষককে আমাদের ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ নয় অথচ তিনি একজন ভালো শিক্ষক তাদেরকেও অপমানজনক ভাবে অপসারণ করা হয়েছে। হিড়িক ইস্যু হিসেবে এসময় অনেক প্রকৃত শিক্ষকদেরও অপমান-অপসারণ করা হয়েছে তার একটা নজির আমরা দেখেছি। কিছু ভালো শিক্ষকদের প্রতিও প্রতিষ্ঠানে কারো কারো ব্যক্তিগত আক্রোশ থাকে, এখানে মূলত সেটাকে সুযোগ বুঝে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এই কাজটা করে পুরো শিক্ষকসমাজকে অপমান করা হয়েছেই, আবার প্রকৃত যেসকল শিক্ষক আছেন তাদেরকে অপমান, অবমূল্যায়ন সবই করা হলো। এই নজির আপনি আর কোথায় পাবেন!

এ নিয়ে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের হর্তাকর্তাদের খুব একটা কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি কখনও। যেই আসুক হাবভাব হচ্ছে, তারা কখনও ভাবেন বলেও মনে হয় না। কেননা স্বাধীনতার এতো বছর পরে এসেও রাষ্ট্রের কাছে লাঞ্ছিত, অপমানিত হতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এটা লজ্জা ছাড়া কিছু না। এই লজ্জা ঢাকার আবরণ কি আছে রাষ্ট্রের? পৃথিবীর আর কোনো দেশেই হয়তো শিক্ষকদের নিয়ে এমনটা দেখতে পাবেন না। এ পর্যন্ত কোনো সরকারেই শিক্ষাখাতে সুবিধাজনক কোনো বাজেট পেশ ও পাশ করতে পারেনি। মানে এ নিয়ে কোনো সদিচ্ছার প্রকাশ পাওয়া যাচ্ছে না কারো মধ্যে। বরং বারবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতার দাবী নিয়ে রাস্তায় আসতে হচ্ছে। পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ ও রাষ্ট্রের বেহায়াপনার চিত্র দেখতে হচ্ছে। এইগুলা করে শিক্ষাখাতকে মানসিক ভাবে দুর্বল করা হচ্ছে দিন দিন।

এখন অনেকে হয়তো বলবেন, শিক্ষকতা যদি ব্রত হয় তাহলে তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে এতো দাবী কেন? একজন শিক্ষকের অবশ্যই উনার পরিবার-পরিজন আছে, ব্যক্তিগত জীবন আছে। এসব চালনার জন্য অবশ্যই তার অর্থের প্রয়োজন। সেটা আসবে কোথায় থেকে? আর আগেই বলেছি গুরুদক্ষিণা ছাড়া শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। এই গুরুদক্ষিণা প্রদানের আরেক অর্থ হলো হলো শিক্ষককে সম্মান প্রদান করা। রাষ্ট্র তো অবশ্যই তার ব্রত কিনে নিতে পারবে না। কিন্তু সম্মান তো অবশ্যই প্রাপ্য। বর্তমানে এই রাষ্ট্র যেখানে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা সঠিকভাবে দিতে পারছে না, অর্থের দিক দিয়েই বা আর কী সম্মান দেবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত