সিলেটটুডে ডেস্ক

০৩ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫৫

দেশে আসামাত্রই মব করে আমাকে মেরে ফেলবে, ভিডিও বার্তায় আলভী

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর কেবল ‘মব আতঙ্কে’ নেপাল থেকে দেশে ফিরে আসেননি বলে দাবি করেছেন অভিনেতা যাহের আলভী।

পাশাপাশি মৃত স্ত্রী ইকরার পরিবারের সদস্য এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধেও কিছু অভিযোগ এনেছেন তিনি। এছাড়া তার অভিযোগ ও সমালোচনা থেকে বাদ যায়নি ইকরাও।

আলভী বলেন, "আপনারা বলছেন, যে মানুষটা ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আত্মহত্যা করে চলে গেল, শেষবারের মত তার মুখটা দেখতেও আমি আসলাম না! কিন্তু আপনারা কি আমার দেশে আসার পরিস্থিতি রাখছেন? আমি দেশে আসামাত্রই মব তৈরি হত। আমাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলতেন। আমার ফোনে এ রকম এত এত হুমকি আমি বলে বোঝাতে পারব না।"

এই কথাগুলো আলভী বলেছেন সোমবার রাতে ফেইসবুকে এক ভিডিও বার্তায় হাজির হয়ে।

ইকরার মৃত্যুর সময় শুটিংয়ে নেপালে ছিলেন আলভী; স্ত্রীর শেষ বিদায়েও হাজির হননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে ভিডিও বার্তায় আসেন আলভী।

প্রায় আধা ঘণ্টার ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন আলভী।

আলভীর ভাষ্য, দেশে ফেরার টিকেট কেটে নেপালের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও ‘নিরাপত্তাঝুঁকি’ বিবেচনায় তিনি ফিরে আসেননি।

"আমার কাছে এমন তথ্যও এসেছে, বিমানবন্দরের বাইরে লোক রাখা আছে। আমি দেশে আসামাত্রই তারা আমাকে মেরে ফেলবে। পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে আইনিভাবে মোকাবিলা করতাম। কিন্তু যদি আমিও মারা যাই, তাহলে আমার ছেলে রিজিকের কী হবে? আপনারা কি চান, সে তার বাবাকেও হারাক?"

আলভী বলেন, “ইকরার পরিবারও আমাকে শেষবার দেখতে দেয়নি। ইকরার শেষ মুখটা আপনারা আমাকে দেখতে দেন নাই, ইকরার পরিবার আমাকে দেখতে দেয় নাই।”

দাম্পত্য জীবন ও ইকরার দাফনে উপস্থিত না থাকা নিয়ে আলভী বলেন, “১৬ বছর ইকরার সঙ্গে সংসার করছি। একটা মানুষ যদি তার শত্রুর সঙ্গেও ১৬ বছর এক ছাদের নিচে থাকে, সে মারা গেলে তাকে দেখার জন্য ছটফট করে। আর সে আমার বউ ছিল, ভালোবেসে আমরা বিয়ে করেছি। সে মারা গেছে, শেষবারের মত তার চেহারা আমি দেখব না?”

ইকরা শুরু থেকেই ‘সন্দেহপ্রবণ ছিলেন’ জানিয়ে আলভী বলেন, “আমাদের রিলেশনশিপটা অনেক আগে থেকেই টক্সিক ছিল। তিথির (সহশিল্পী) সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে থেকেই ইকরা টক্সিক ছিল। ও অনেক আগে থেকেই আমার কাছে ডিভোর্স চাইত। কিন্তু আমি কোনো দিন ওকে ডিভোর্স দিতে চাইনি। আমার একটাই কথা ছিল, আমি সংসার করব।

“কারণ, আমি নিজেই একটা ব্রোকেন ফ্যামিলিতে বড় হওয়া ছেলে। আমি কোনো দিন চাইনি আমার সন্তান রিজিক এই কষ্টটা পাক। আমাদের সম্পর্কের শুরু থেকেই সন্দেহপ্রবণ ছিল ইকরা। এই সন্দেহপ্রবণতার কারণে আমাদের সম্পর্কটা টক্সিক হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যেও আমরা সংসারটি চালিয়ে যাচ্ছিলাম।”

বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে তাদের ‘সম্পর্ক আরও জটিল’ হয়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেতা।

অভিনেত্রী তিথির সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে আলভী বলেন, “দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করার কারণে ইন্ডাস্ট্রিতে একজন আর্টিস্টের সঙ্গে একজন আর্টিস্টের একটা ভালো বন্ডিং হতেই পারে। তার মানে এই না যে আমি ইকরাকে ডিভোর্স দিয়ে তিথিকে বিয়ে করব। এই কথা না আমি ইকরাকে বলেছি, না আমি তিথিকে কোনো দিন বলেছি। না তিথি কোনো দিন আমাকে এই কথা বলেছে।

“তিথির প্রতি একটা সুন্দর নির্ভরযোগ্যতা তৈরি হওয়ার কারণ চারপাশে এত ভুল মানুষ, এত দুধের মাছি দেখছি, তার মাঝে ওকে আমার অনেস্ট মনে হইছে, ডেডিকেটেড মনে হইছে, কাজ করতে গিয়ে ওর সঙ্গে ভালো বন্ডিং হইছে।”

২০১০ সালে একে অপরকে ভালোবাসে বিয়ে করেন আলভী ও ইকরা। তাদের একটি ছেলে সন্তান আছে।

গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর নেপাল থেকে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে স্ত্রীর মৃত্যুর এই ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলেন আলভী। রোববার বাদ আসর ময়মনসিংহের ভালুকার ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে ইকরাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আলভীসহ তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করা হয়। আত্মহত্যায় প্ররোচণার ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এর মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ইকরা ও আলভীর বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত চ্যাটও ফাঁস হয়। যেখানে এক আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রীর কয়েক বছরের সম্পর্কের ইঙ্গিত করা হয়।

ইকরার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এক সহশিল্পীর সঙ্গে আলভীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায়। আর সে কারণেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

ইকরার মা রেবেকা সুলতানা, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের মধ্যেও কেউ কেউ একই অভিযোগ তুলেছেন।

মৃত্যুর দুদিন পর সোমবার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর আসে ইকরার ব্যবহার করা ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত