০৫ জুলাই, ২০২৪ ১৩:০০
যুক্তরাজ্যের ৪ জুলাইয়ের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আপসানা বেগম বিজয়ী হয়েছেন।
বাংলাদেশি অধ্যুষিত পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসনের লেবার মনোনীত প্রার্থী আপসানা বেগম ১৮ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে টানা দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী তার সাবেক স্বামী এহতেশামুল হক ৪ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন গ্রিন পার্টির নাথালি বেইনফিট। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৭৫ ভোট আর ৪ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির ফ্রেডি ডউনিং।
আপসানা-এহতেশামের বিয়ে ও বিয়ে–পরবর্তী নানা ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ডিভোর্সের নয় বছর পর সাবেক স্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্যের বিপরীতে লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত আসন পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস থেকে এহতেশামের প্রার্থিতার বিষয়টি কমিউনিটিতে আলোচনা তৈরি করেছিল।
এহতেশামুল হক টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর মনির উদ্দীন আহমেদের মেয়ে আপসানা বেগম ও সাবেক কাউন্সিলর এহতেশামুল হকের বিয়ে হয়। দুজনের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায়। তাদের বিচ্ছেদ হয় ২০১৫ সালে। এরপর ২০১৯ সালে আপসানা প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পারিবারিক সহিংসতা নির্যাতনবিষয়ক ব্রিটিশ সংসদের সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ওয়েস্ট মিনিস্টার পার্লামেন্টে বক্তৃতা দিতে গিয়ে আপসানা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানান, যাতে পারিবারিক নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের আর হয়রানির শিকার না হতে হয়। তিনি এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন, যেখানকার পরিবেশ অস্থির ও অপমানজনক ছিল বলে তার সহকর্মী সংসদ সদস্যদের জানান।
২০২০ সালে আপসানার বিরুদ্ধে তার সাবেক স্বামীর পরিবারের একজন সদস্য আবাসন জালিয়াতির অভিযোগ আনেন। ২০২১ সালের ৩০ জুলাই আদালতে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
নির্বাচনে আপসানা বেগমের দল লেবার পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, লেবার পার্টি ৩৩৩টি আসনে জয় পেয়েছে। বড় ব্যবধান গড়ে তুলেছে কনজারভেটিভ পার্টির সঙ্গে। এই পার্টি পেয়েছে ৭১টি আসন। আর লিবারেল ডেমোক্র্যাটস পার্টি পেয়েছে ৪৬টি আসনে জয়।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।
এবারের নির্বাচনে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৯৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ৩৫টি রাজনৈতিক দল মাত্র একজন করে প্রার্থী দেয়। এবার ৪ হাজার ৫১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একেকটি আসনে গড়ে ৭ জন করে প্রার্থী। ৩১৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৫৯ জন।
আগামী ৯ জুলাই পার্লামেন্টে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতারা। এরপর নির্বাচিত হবেন নতুন স্পিকার। ১৭ জুলাই রাজা তৃতীয় চার্লসের উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পার্লামেন্টের অধিবেশন।
আপনার মন্তব্য