০১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫০
জলপাইগুড়ির নয়াবস্তিতে খালেদা জিয়াদের পুরনো বাড়ি। ছবি সংগৃহীত
অবিভক্ত দুই বাংলার ইতিহাসে জলপাইগুড়ি শহর শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়, অনেক স্মৃতি ও জীবনের গল্পের ধারক। সেই জলপাইগুড়ি শহরেই, স্বাধীনতার আগের সময়ে জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার। তাঁর মৃত্যুর খবরে ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে শহরের নয়াবস্তি পাড়া। সময়ের প্রবাহে দেশ বদলেছে, সীমানা বদলেছে, কিন্তু স্মৃতির শিকড় রয়ে গেছে এই শহরের মাটিতে।
ছোটবেলায় তাকে 'পুতুল' বলে ডাকতেন সকলে। চা কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার সংস্থা দাশ অ্যান্ড কোম্পানিতে চাকরি করতেন বাবা মুহাম্মদ ইসকান্দর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে এক হিন্দু পরিবারের সঙ্গে জমি বিনিময় করে খালেদারা চলে যান সেখানে। আর জলপাইগুড়ির ওই বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করে ওপারের চক্রবর্তী পরিবার।
জলপাইগুড়ি পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের নয়াবস্তি পাড়ায় থাকা শতাব্দী প্রাচীন ফ্রেন্ডস ব্যাপটিস্ট চার্চের ঠিক পাশের গলিতে ছিল তাদের বাগান বাড়ি। নয়াবস্তি পাড়ায় কেটেছিল খালেদার শৈশবের বেশ কয়েকটা বছর।
জলপাইগুড়ির সাহিত্যিক ও লেখক প্রয়াত কামাখ্যা চক্রবর্তীর বিখ্যাত বই ‘সেকালের জলপাইগুড়ি শহর এবং সামাজিক জীবনের কিছু কথা’ থেকে উঠে আসা তথ্য বলছে দেশভাগের পর খালেদার পরিবার এখানের মুখার্জি পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি বিনিময় করে ওপারে চলে যায়। খালেদার আদি বাড়ির এক অংশে এখন থাকেন চক্রবর্তী ও গোপ পরিবার। সবটা মিলিয়েই ছিল খালেদাদের বাড়ি।
বর্তমানে খালেদা জিয়াদের জলপাইগুড়ির বাগান বাড়ির একটা অংশ কিনে নিয়ে বাড়ি বানিয়েছে গোপ পরিবার। উৎপল গোপ বলেন, তারা আমাদের পাড়ারই মানুষ ছিল। আজও বিশ্বাস হয় না।
পাশের বাড়ির বাসিন্দা চামেলী বিশ্বাসের কথায়, রাজনীতি নয়, মানুষের টানটাই বড়। আজ মনটা খুব খারাপ।
ঠিক উল্টোদিকে বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ভোলা মণ্ডলের। সচিব ভোলা মন্ডলের দাবি, তার মায়ের কোলে-পিঠে বড় হয়েছেন খালেদা। অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন তিনি। গত বছর পর্যন্ত খালেদার আত্মীয়রা এসে এই ভিটে দেখে গিয়েছেন।
ইতিহাসবিদ ডক্টর আনন্দ গোপাল ঘোষ বলছেন, খালেদার বাবা ইসকান্দার মির্জা চায়ের ব্যবসার সূত্রে নোয়াখালি থেকে জলপাইগুড়ি আসেন। ১৯৫০ সালের পর খালেদার পরিবার জলপাইগুড়ি ছেড়ে চলে যায়। অন্যদিকে বিখ্যাত ফুটবলার ফজলার রহমানের ছেলে পুটু রহমান বলছেন, তার বাবার সঙ্গেও খালেদার পরিবারের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
খালেদার বাবা চাকরি সূত্রে জলপাইগুড়ি এসেছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে চায়ের ব্যবসায় যুক্ত হন। জলপাইগুড়ির যে স্কুলে পড়তেন খালেদা, সেই সুনীতিবালা সদর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরূপ দে জানিয়েছেন, আমি শুনেছি তার কথা। ইতিহাস ঘেঁটে জানতে পেরেছি, এখানে তিনি পড়তেন। এখন তো স্কুল বন্ধ। তাই তার স্মরণসভা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলব। দিন ঠিক করা হবে।
সূত্র: বাংলাট্রিবিউন
আপনার মন্তব্য