০৯ মার্চ, ২০২৬ ২১:১৯
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের পাঠাচ্ছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞরা সেখানে গিয়ে ড্রোন হামলা ঠেকানোর বিষয়ে তাঁদের বিশেষ জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা বিনিময় করবেন।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ড্রোন মোকাবিলায় অর্জিত অভিজ্ঞতাকে এবার দর–কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে কিয়েভ। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সংকট তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কার মধ্যেই ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে নতুন করে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় কিয়েভ ঠিক কীভাবে সাহায্য করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি বিশেষজ্ঞ দল সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের পর থেকেই ড্রোন যুদ্ধে নিজেদের পারদর্শিতার কথা সামনে আনছে ইউক্রেন। কিয়েভের আগ্রহ হলো, তারা ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য তাদের তৈরি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন সরবরাহ করবে আর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেবে শক্তিশালী প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
ইউক্রেন ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা ব্যয়বহুল প্যাক-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রসংকটে ভুগছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই সরবরাহব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের এই সহায়তা হতে হবে ‘উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বেসামরিক নাগরিক এবং সেখানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় সহায়তার জন্য কিয়েভের কাছে কিছু অনুরোধ এসেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেন বিশেষজ্ঞ দল ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা দিতে রাজি হয়েছে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, এ সক্ষমতা বৃদ্ধির আলোচনা যেন উভয় পক্ষের জন্যই সুফল বয়ে আনে। আমরা এই পথেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ বিশেষজ্ঞ দলটি সেখানে পৌঁছে প্রথম দফার বৈঠকের পর এই চুক্তির বিস্তারিত আরও পরিষ্কার হবে বলে তিনি জানান।
আপনার মন্তব্য