সিলেটটুডে ডেস্ক

২৭ নভেম্বর, ২০২১ ১৯:৩৬

সাংবাদিক নির্যাতন: কুড়িগ্রামের সেই ডিসির দণ্ড মওকুফ

বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের ‘লঘুদণ্ড’ মওকুফ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

সুলতানার আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেয়া ‘দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা’র দণ্ডাদেশ বাতিল করে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২৩ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর রয়েছে সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজমের।

কী আছে প্রজ্ঞাপনে

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রামে কর্মরত থাকার সময় বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক জনাব আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে ধরে নিয়ে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় গত বছরের ১৮ মার্চ ৯৭ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়।

'অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুলতানা পারভীন গত বছরের ২৫ জুন লিখিত জবাব দাখিলপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানির প্রার্থনা করলে গত বছরের ৯ আগস্ট ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। তার লিখিত জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানিতে প্রদত্ত মৌখিক বক্তব্য সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়।'

এতে বলা হয়, “তদন্ত বোর্ডের আহ্বায়ক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলী কদরের গত ২ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী আনীত ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন।

“তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুলতানা পারভীনকে গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(৯) মোতাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৮ জুন ৮৩ নম্বর স্মারকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।”

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘সুলতানা পারভীন গত ২২ জুন লিখিতভাবে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব দাখিল করলে দাখিলকৃত জবাব ও তদন্ত প্রতিবেদনসহ অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক প্রশাসনিক বিষয়াদি বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৪(২)(খ) বিধি অনুসারে তাকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা নামীয় লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়।

‘সুলতানা পারভীন তার উপর আরোপিত লঘুদণ্ডাদেশ মওকুফের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল আবেদন পেশ করলে রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে সুলতানা পারভীনের আপিল আবেদন বিবেচনা করে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার দণ্ডাদেশ বাতিল করে তাঁকে অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করেছেন।’

সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় মামলায় দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১০ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে। সবশেষ প্রজ্ঞাপনে আগেরটি বাতিল করে সুলতানাকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

দণ্ড মওকুফে হতাশ আরিফুল

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসির দণ্ডাদেশ মওকুফের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান বলেন, ‘আমি হতাশ। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি আমার বিষয়টিও দেখতে পারতেন। আইন সবার জন্য।

‘সরকারি চাকরিজীবীর আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক হলেও এই আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। যেহেতু আমার মামলাটি হাইকোর্টে আছে, সেখানে আমি ন্যায়বিচার পাব বলে আশাবাদী।’

কী হয়েছিল আরিফুলের সঙ্গে

২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় হানা দিয়ে তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকিসহ ডিসি অফিসে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

এরপর অধূমপায়ী আরিফের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ওই রাতেই এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৫ মার্চ আরিফ জামিনে মুক্তি পান।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে কুড়িগ্রামের তখনকার জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বিভাগীয় অভিযোগ হয়। ঘটনা তদন্তে কমিটি করে মন্ত্রণালয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত