সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০২:০৯

জুলাই আন্দোলনে জেল থেকে পালানো জঙ্গি ‘জুয়েল ওস্তাদ’ এবার বোমাসহ গ্রেপ্তার

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আদালত ‘জুয়েল ওস্তাদ’-সহ ১১ জনকে খালাস দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতাকর্মী উল্লেখ করে।

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ডেমরার সারুলিয়ায় বোমা সদৃশ বস্তু দুটি হাতবোমা বলেই নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ; যেগুলো চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় নরসিংদীর জেল থেকে পালানো ‘জঙ্গি’ জুয়েল ভুঁইয়া ওরফে ‘ওস্তাদের’ কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, জুয়েল নব্য জেএমবির আলোচিত বোমার কারিগর নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

পুলিশ বলছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী কারাগারে দাঙ্গার পর পালিয়ে যাওয়া নয়জন জঙ্গির মধ্যে ছিলেন জুয়েল ভুঁইয়া। ছয়দিন পর ২৫ জুলাই তিনি আবার নরসিংদী জেলা পুলিশের হাতে ধরাও পড়েন। পরে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বরের দিকে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

সবশেষ রোববার (১৬ আগস্ট) বিকালে বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমা উদ্ধার এবং পুলিশের ওপর জঙ্গি হামলার তদন্তের সূত্র ধরে ডেমরার সারুলিয়া এলাকার পশ্চিম নিঝুমবাগ থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে দুটি বোমা উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। জঙ্গি নেটওয়ার্কে জুয়েলের ‘কোডনেম’ হচ্ছে ‘ওস্তাদ’। তার বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরের কাজীরচরে।

ডিএমপির ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহসিন মাসুদ বলেন, “বোমারু মামুনের সহযোগী হিসেবে সন্দেহভাজন জুয়েল ওই এলাকায় অবস্থান করছেন– এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। অভিযানে দুটি হাতে তৈরি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।”

পুলিশ বলছে, জুয়েল যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, পরে সেটি ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে তল্লাশি শেষে উদ্ধার করা বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’ এর সদস্য সন্দেহে ২০২৩ সালে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এটিইউ জুয়েল ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ১৯ জুলাই কারাগার থেকে আরও কয়েকশ বন্দির সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। এরপর ২৫ জুলাই জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঠানো হয় কাশিমপুর কারাগারে। সেখানেই বোমারু মামুনের সঙ্গে সখ্যতা হয় তার। এক মাস পরেই সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বরে বোমারু মামুনদের সঙ্গে জামিনে বেরিয়ে আসেন জুয়েল।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ১৯ জুলাই বিকেলে নরসিংদী কারাগারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা কারাগারের ভেতরে ঢুকে সেলের তালা ভেঙে ফেলে‌‌ন। সেখান থেকে ৯ জঙ্গিসহ ৮২৬ কয়েদি পালিয়ে যান। কারাগারের অস্ত্রাগার ও কারারক্ষীদের কাছ থেকে ৮৫টি অস্ত্র ও ৮ হাজার ১৫০টি গুলি লুট করা হয়।

পুলিশ বলছে, গত জুলাইতে সনাতনধর্মীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর ‘পাইপ বোমা’ ফেলে রাখা এবং আশুলিয়ার চারাবাগে চায়ের দোকানে ‘প্রেশার কুকার’ বোমা ফেলে রাখার ঘটনার পর মামুন-আরিফদের ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। এ ধারাবাহিকতায় আরিফ ধরা পড়লেও মামুন এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নব্য জেএমবির মূল বোমার কারিগর হিসেবে তাকে চিহ্নিত করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাভারের শ্যামপুরে বোমারু মামুনের অন্যতম সহযোগী আরিফকে গ্রেপ্তারের পর সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে তার আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। সন্ধ্যা থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত অভিযান চলে। সেখান থেকে প্রচুর পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির রাসায়নিক ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এর পরদিনই সাভারের ভারের গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনে একটি মাঠে পড়ে থাকা আরেকটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, এরপর ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং একই মাসে রাজধানীর সায়েদাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতেও মামুন ও তার শিষ্য আরিফ ওরফে ইমরানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের ধারাবাহিক অভিযানেই রোববার ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জুয়েল ওরফে ওস্তাদকে।

পুলিশ বলছে, হোটেল ওলিও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন মামুন। যদিও চলতি বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকার একটি আদালত মামুনসহ মামলার ১১ আসামিকেই খালাস দিয়েছে।

রায়ের পর্যালোচনায় বিচারক লিখেছেন, “আসামিরা সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতাকর্মী।”

গ্রেপ্তার জুয়েলের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা। সূত্র: বিডিনিউজ২৪।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত