২১ এপ্রিল, ২০১৬ ০৯:৪১
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের বাঘড়ি এলাকার নুরানি কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা ও হিফজখানা নামে একটি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ৮ জন খুদে শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে গত মঙ্গলবার দুপুরে এক শিক্ষক কাঁচি দিয়ে ওই শিশুদের চুল কেটে দেন। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা থাকায় কয়েক দিন ধরে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক রবিউল ইসলাম দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ছেলে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল কেটে আসতে বলেন। কিন্তু মঙ্গলবার শিশু শিক্ষার্থীরা চুল না কেটে মাদ্রাসায় এলে শিক্ষক রবিউল ইসলাম ক্ষুব্ধ হন এবং শ্রেণিকক্ষে দাঁড় করিয়ে টুপি খুলে কাঁচি দিয়ে ৮ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেন। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের কাছে এ ঘটনা জানালে কয়েকজন অভিভাবক মাদ্রাসায় গিয়ে এ ঘটনার কারণ জানতে চান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক বলেন, এই মাদ্রাসার অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র ঘরের হওয়ায় তারা সব সময় চাহিদা মাফিক সবকিছু পায় না। তাই হয়তো ওদের চুল কাটতে একটু দেরি হয়েছে। এ ছাড়া ওরা ছোট মানুষ, তাই প্রচণ্ড গরমে মাথায় টুপি পরতে অনেক সময় অনীহা প্রকাশ করে। তাই বলে এভাবে চুল কেটে দেওয়াটা সমীচীন হয়নি। শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ খুবই অন্যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ছেলে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল বড় হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেক দিন ধরে চুল কেটে আসতে বললেও তারা তা করেনি। তাই কাঁচি দিয়ে তাদের মাথায় একটি করে পোঁচ দিয়ে চুল কেটে দিয়েছি, যাতে বাড়ি গিয়ে চুল কেটে আসে।’
এ বিষয়ে নুরানি কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা ও হিফজখানার প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন গতকাল বুধবার বলেন, ‘এ ঘটনা শুনে অভিযুক্ত শিক্ষককে গালমন্দ করেছি। এ ছাড়া এ ঘটনায় শিক্ষক রবিউলের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র: প্রথম আলো।
আপনার মন্তব্য