২১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:১৭
ফরিদপুরে দায়ের করা ৫৭ ধারার মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) হবার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে তার কপি তুলতে পারছেন না বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রবীর শিকদার। গত বছর আগস্ট মাসে হিন্দু সম্পত্তি দখল সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সমালোচনা করার পর তাকে আটক করে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে দেশব্যাপী তুমুল প্রতিবাদের মুখে জামিন পান তিনি। তবে দায়েরকৃত মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়নি।
সম্প্রতি এই মামলায় প্রবীর শিকদারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দায়ের করা হলে তার কপি তুলতে পারছেন না তিনি। এই বিষয়ে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "আমার আইনজীবী তিন দিন ধরে চার্জশিটেরত নকল তুলতে পারছেন না"। এর পেছনে কার হাত রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সবই তো আপনারা বুঝতে পারছেন"। তিনি বলেন, "এত কিছুর পরও আমি শঙ্কিত নই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রবীর শিকদার এই বিষয়ে এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখেছেন:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাকে বাঁচান!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, আপনি অবিলম্বে আমাকে বাঁচান। আমি আমার মামলা নিয়ে কোনও ধরণের দয়া ভিক্ষা চাইছি না। ফরিদপুরে দায়ের করা ৫৭ ধারার মামলা ও তার চার্জশিট নিয়ে আমি মোটেই বিচলিত নই। আইন ও বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করলে আমি নিশ্চিত। আইনি লড়াই করেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলায় আমি টিকে থাকবো, থাকবোই। আমাকে যেন আর কেউ মিথ্যা মামলায় হয়রানি করতে না পারে,কিংবা ভুয়া গোয়েন্দা পরিচয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তুলে নিয়ে আমাকে গায়েব করে ফেলতে না পারে, সেটা আপনি নিশ্চিত করবেন প্লিজ।
আমার এই শঙ্কার কারণ, ফরিদপুরে আমার পক্ষে আইনি লড়াই করছেন মাত্র একজন আইনজীবী। গত তিন দিন ধরে আমার মামলার চার্জশিটের নকল তুলতে পারছেন না ওই আইনজীবী । এই কষ্টের কথা আমি আপনি ছাড়া আর কাকেই বা বলবো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
প্রসঙ্গত, তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গত বছর (২০১৫) ১৬ আগস্ট ঢাকায় নিজ কার্যালয় থেকে প্রবীর শিকদারকে আটক করে রাতেই ফরিদপুরে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হলে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রবীরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পরদিন ১৮ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এর পরদিন ১৯ আগস্ট রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই আদালত সাংবাদিক প্রবীর এর জামিন মঞ্জুর করে।
আপনার মন্তব্য