১৮ মে, ২০১৬ ০১:১৩
"আমাদের বাংলাদেশ যদি সোনার বাংলা হয়ে যায় যেখানে সমস্ত রকম অর্থনৈতিক মুক্তি হয়ে গেছে, অনেক উন্নত হয়ে যায়, সব রকম অভাব মিটে যায় কিন্তু তারপরও বলব আমরা অসভ্য ও বর্বর জাতি যেখানে একজন শিক্ষককে এভাবে কান ধরে উঠবস করে অপদস্থ হতে হয়"।
নারায়ণগঞ্জে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার মঙ্গলবার(১৭ মে) রাতে প্রতিক্রিয়ায় জানতে চাইলে এমনটি বলেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
তিনি বলেন, "মানুষকে মানুষের সম্মান করতে হয়, একজন বড় অপরাধীকেও এভাবে অপদস্থ করা যায় না আর উনি তো সম্মানিত শিক্ষক। এটি একটি অকল্পনীয় ব্যাপার। কেবল তাই নয় এটি অবিশ্বাস্য ও মর্মান্তিক। একজন সাংসদের উপস্থিতিতে কয়েকজন লোক একজন শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করাচ্ছে। কম্পিউটারে আমার সাহস হয়নি এই ভিডিওটি দেখার"।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, "এসব ঘটনা কিন্তু প্রথমবার না, আমরা কিন্তু এমন ঘটনা বারবার দেখছি। এর আগে অবমাননার উড়ো অভিযোগ তোলে বাগেরহাটে দুজন শিক্ষককে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আসলে কি হয়েছে আমরা কিন্তু কেউ জানিনা, এখন আরেকজন শিক্ষককে অপদস্থ করা হল।"
বারবার ধর্ম অবমাননার কথা বলে অপরাধ সংঘটিত করা সম্পর্কে তিনি বলেন, "একইভাবে হত্যাকাণ্ডও চলছে। টাঙ্গাইলে একজন দর্জিকে পর্যন্ত কুপিয়ে হত্যা করা হল। সবগুলো ঘটনার প্যার্টান কিন্তু একই, এ থেকেই বোঝা যায় এরা কেউই ধর্মের অবমাননা করেননি"। "এক গোষ্ঠির স্বার্থ হাসিলের জন্য বাংলাদেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।" যুক্ত করেন তিনি।
সবাইকে এসবের প্রতিবাদ করার আহবান করে জাফর ইকবাল বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ যদি এসবের প্রতিবাদ না করে বাংলাদেশ যতই উন্নত হোক আমি এর ভবিষ্যৎ দেখিনা"।
শিক্ষক শ্যামল কান্তির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আমি বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষকের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। এই অপমান কেবল তাঁর নয়, আমাদেরও। পুরো বাংলাদেশের। আমরা সবাই কান ধরে উঠবস করেছি। "
সরকারের ভূমিকার কারণে ধর্ম অবমাননার গুজব রটিয়ে একের পর এক অপকর্ম করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিক।
আরও পড়ুন- সেই ছাত্রই বলছে, ‘স্যার ধর্ম নিয়ে কোন কটূক্তি করেননি’
গত ১৩ মে বিকেলে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ রটিয়ে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় সংসদ ও জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম ওসমান। সেলিম ওসমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকাবাসীর রোষ থেকে তাকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ভিডিওতে দেখা যায় সাংসদ সেলিম ওসমান নিজেই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করে শাস্তি দিচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন- শাবিতে ‘কান ধরে’ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ
এদিকে এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী সাংসদ সেলিম ওসমানের শাস্তি দাবি করেছে তারা। তবে এসব সমালোচনার মধ্যেই শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বরখাস্ত করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার দিনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনাটি দণ্ডবিধিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে এই ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।
আপনার মন্তব্য