১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:১৫
ঢাকার আজিমপুর অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন যুবকের আঙুলের ছাপের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার মিলিয়ে তার ‘আসল পরিচয়’ জানতে পেরেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান রোববার সাংবাদিকদের জানান, ওই যুবকের প্রকৃত নাম জামশেদ হোসেন। বাড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়া উপজেলার মেহেরচণ্ডী গ্রামে। পুলিশ বলছে, নব্য জেএমবির এই সদস্যের সাংগঠনিক নাম আবদুল করিম। তিনি গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারীদের সহযোগী। জামশেদও নব্য জেএমবির একজন উচ্চ পর্যায়ের সদস্য ছিল বলে জানান মাসুদুর রহমান।
শনিবার সন্ধ্যায় আজিমপুর বিজিবি সদর দপ্তরের ২ নাম্বার গেইটের ওই বাসায় পুলিশের অভিযানের সময় জামশেদ ওরফে আবদুল করিমের লাশ পাওয়া যায়। আহত হন সন্দেহভাজন তিন নারী জঙ্গি ও পাঁচ পুলিশ সদস্য। রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গির গলা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
আটক তিন নারীর মধ্যে একজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বাকি দুজনও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন একজন যুগ্ম কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান। অভিযানে ওই বাসা থেকে একটি ছেলেসহ তিন শিশুকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মধ্যে সবার বড় ছেলেটির বয়স ১২ থেকে ১৩ বছর। আর দুটি মেয়ের মধ্যে একজনের বয়স নয় থেকে ১০ বছর, অন্যটির বয়স বছরখানেক।উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, তিন শিশুর মধ্যে ছেলেটি জামশেদের সন্তান বলে তারা ধারণা করছেন।
পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক রাতে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নিহত যুবকের সঙ্গে গুলশান হামলায় সন্দেহভাজন একজনের চেহারার মিল পেয়েছেন তারা।
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ওই হামলার কিছুদিন আগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে হামলাকারীরা আশ্রয় নিয়েছিল। ‘আব্দুল করিম’ ছদ্মনামে জামশেদই ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন বলে পুলিশের ধারণা।
আর সন্দেহভাজন তিন নারী জঙ্গির মধ্যে একজন সপ্তাহখানেক আগে রূপনগরে নিহত জঙ্গি জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নেসা শিলা বলে ধারণা করছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দুটি মেয়ে শিশু ওই দম্পতিরই সন্তান বলে পুলিশ মনে করছে।
গত ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ‘নব্য জেএমবির’ শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরী পুলিশের এক অভিযানে নিহত হন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর নিহত হন তামিমের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ জাহিদুল ইসলাম, যিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া একজন মেজর।
পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হক রাতে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “রূপনগরে অপারেশনের পরে আমরা জানতে পেরেছিলাম, রূপনগরে যে মারা গেছে জাহিদ তার ফ্যামিলি এবং আরও দুই তিনজন জঙ্গি আজিমপুর এলাকায় কোথাও লুকিয়ে আছে। আমরা বেশ কয়েকদিন যাবৎ এটা তল্লাশি করতেছি। আজকে তল্লাশিতে আমরা তাদের আস্তানা খুঁজে পেয়েছি।”
আপনার মন্তব্য