২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:১৫
গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় নিহত ৫ জঙ্গির বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি তৎপরতা নজরদারি সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ আইএসের কথিত সংবাদসংস্থা আমাক'র বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে এ ভিডিও প্রকাশের তথ্য জানিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, গুলশান হামলার কয়েক দিন আগে জঙ্গিদের বক্তব্য ওই ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিও'র শেষ অংশে গুলশান হামলায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ১৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে আরবির পাশাপাশি বাংলাতেও বক্তব্য রাখা হয়েছে।
ভিডিও'র প্রথম ৯ মিনিটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া মসজিদের ইমামসহ কয়েকজনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তৃতা তুলে ধরে বাংলাদেশের আলেম সমাজের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেও বক্তব্য দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বনেতাদের ছবি ব্যবহার করে তাদের 'কাফের' আখ্যা দিয়ে বলা হয়, 'মুসলিমদের তাদের প্রতি কঠোর হতে হবে।'
ভিডিওটির দ্বিতীয় অংশে দেখা যায়, গুলশান হামলার ঘটনায় নিহত পাঁচ জঙ্গি কালো পাঞ্জাবি এবং মাথায় বিশেষ ধরনের স্কার্ফ বেঁধে আইএসের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। এতে গুলশান হামলায় নিহত পাঁচ জঙ্গির মধ্যে মীর মোবাশ্বের এবং নিব্রাস ইসলামকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং ভারী অস্ত্র ও ছুরি হাতে দেখা গেছে।
ভিডিওতে নিব্রাস বলছেন, "মানুষ আমাদের সম্পর্কে কী ভাবছে অথবা কী বলছে, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।" এ সময় জঙ্গিরা কোরআন-হাদিস থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতিও তুলে ধরে।
গুলশানে হামলার বিষয়ে যুক্তি হিসেবে ভিডিওতে বলা হয়েছে, মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশুদের রক্তে রঞ্জিত ক্রুসেডাররা মুসলিমদের প্রতি তাদের চরম উপহাস হিসেবে বাংলাকে তাদের মনোরঞ্জনের স্থান হিসেবে বেছে নেয়। তাই তারা ৫ জন ঢাকার গুলশানে হামলা চালিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশীসহ ২০ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরের দিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় ৫ জঙ্গি- নিবরাস ইসলাম, রোহান ইমতিয়াজ, মীর মোবাশ্বের, খাইরুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জল।
আপনার মন্তব্য