রাবি প্রতিনিধি

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:১৮

‘আব্বা রান্নাঘর থেকে চাকু এনে আমার গলায় ধরে’

‘‘আব্বা বলেন, ‘তুই কি ঝগড়া লাগাইতে চাস? তোর আম্মার মতো হয়েছিস।’ আমি বলি, আমার আম্মার নামে এসব কথা বলবা না। খবরদার! আব্বা বলে, ‘তোর মায়ের সাথে কথা বন্ধ কর, এই কথাগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।’ আমি বলি বন্ধ করব না! আব্বা তখনি রান্নাঘরে গিয়ে একটা বড় চাকু নিয়ে এসে আমার গলায় ধরে।”

মায়ের গলায় বাবার ছুরি ধরার কথা এভাবেই নিজের ফেসবুকে লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির ছেলে আয়মান সোয়াদ আহমদ (১৪)।

‘সুইসাইড নোট’ লিখে মায়ের আত্মহত্যার ১৭ দিন পর সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুকে ৯ম শ্রেণীর এ ছাত্র আবেগঘন পোস্ট দেয়।

সোয়াদের বাবা তানভীর আহমদও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

মরদেহ উদ্ধারের দিন রাতে আকতার জাহানের কক্ষ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। যেখানে তিনি লিথেছেন, ‘যে বাবা তার সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে যেকোনো সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে।’

ছরি ধরার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আয়মান সোয়াদ লিখেছে, “ অনেকদিন ধরেই আমার কাছে ওই ‘গলায় ছুরি’ ধরার ঘটনাটা জানতে চাওয়া হচ্ছে। আজকে বলেই দেই, কী ঘটেছিল ওই দিন। আম্মা আর আমি বাইরে যেতে চাইছিলাম আমার এক বান্ধবীর বাসায় (বান্ধবীর নাম মেনশন কররাম না)। সারাদিন প্ল্যানিং করার পর আমি আব্বার কাছে অনুমতি চাইতে গেছিলাম। অনুমতি চাওয়ার সময় আব্বা বলে ‘তোমার আম্মাকে বলো ওর মতো চলে যেতে। আমি তোমাকে দিয়ে আসব।’ আমি বললাম, আজব তো। আমি আর মা এই জিনিস প্ল্যান করছি। তুমি কেন interfere করতেছ? আব্বা বলল ‘বাপ হিসেবে আমার এই অধিকার আছে।’ আমি বললাম, কিন্তু আম্মার সাথে প্ল্যান নষ্ট করার অধিকারও তোমার নাই। আব্বা বলে main thing is `...তোমাকে ওই মহিলার সাথে যেতে দেব না। গেলে আমার সাথে যাবা নইলে নাই।’ আমি বলি, কী এমন করছে যে এত ক্ষতিকর মনে করো আম্মাকে? হ্যাঁ?”

সোয়াদ আরো লিখেছে, “আব্বা কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে যায়। পরে বাধ্য হয়ে আম্মআকে ফোন দিয়ে বলি যে আমি যেতে পারব না আজকে। মা বলে, ‘আমি বুঝছি কী হয়েছে। চিন্তা করিস না বাবা। আর কয়েকটা দিন।’ পরে সন্ধ্যা বেলায় আব্বাকে বলি ‘প্ল্যানটা নষ্ট করার জন্য ধন্যবাদ’ তখনি আব্বা বলে উঠে ‘তুই কি ঝগড়া লাগাইতে চাস? তোর আম্মার মতো হয়েছিস।’ আমি বলি, আমার আম্মার নামে এসব কথা বলবা না। খবরদার! আব্বা বলে, ‘তোর মায়ের সাথে কথা বন্ধ কর, এই কথাগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।’ আমি বলি বন্ধ করব না! আব্বা তখনি রান্নাঘরে গিয়ে একটা বড় চাকু নিয়ে এসে আমার গলায় ধরে বলে ‘কি বললি? শুনতে পাইনি’ বললাম অল্প স্বরে ‘বন্ধ করব না। মেরে ফেলতে চাইলে মারো। আম্মাকে তো আমার সামনে মারার চেষ্টা করেছ। শিউরলি এটাও পারবে। আব্বা ছুরিটা ছুড়ে মাটিতে ফেলে দিল কিছু না বলে চলে যায় ঘরে...।”

আকতার জাহানের মৃত্যুর ওই দিন শনিবারই (১০ সেপ্টেম্বর)  আকতার জাহানের ছোটো ভাই কামরুল হাসান রতন অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ মামলা করেন। এতে তিনি বলেন, ‘সুইসাইড  নোট  থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়  যে, তিনি (আকতার জাহান) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী/ প্ররোচনাকারীদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে মর্জি হয়।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত