১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৫১
প্রয়াত রাজনৈতিক নেতা অজয় রায়কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ।
প্রবীণ এই কমিউনিস্ট নেতা সোমবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে ধানমন্ডির নিজের বাসায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অজয় রায়ের মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। শহীদ মিনারে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় অজয় রায়কে।
নিজের প্রতিষ্ঠিত সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের নেতাকর্মীরা ছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া প্রয়াতের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
সৈয়দ আশরাফ সাংবাদিকদের বলেন, “অজয় রায় একজন অমায়িক, দয়ালু এবং শিক্ষিত মানুষ ছিলেন। উনি অন্য দল করলেও উনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল অনেক গভীর। আমার জন্মের পর পর থেকে উনাকে ভালো করে দেখে আসছি। রাজনৈতিকভাবে উনার কাছে আমি অনেক কিছু শিখেছি।”
কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হিসেবে অজয় রায় গত শতকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও সংগঠকের ভূমিকায় ছিলেন তিনি।
আশরাফ বলেন, “১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহ জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় জেলখানার চার তলায় দাঁড়িয়ে বাংলার মুক্তির সংগ্রামের কথা বলেছিলেন তিনি। আমরা কয়েকশ নেতাকর্মী সেই বক্তব্য শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।
“বক্তব্যের তীক্ষ্ণতা এতই বেশি ছিল যে, এক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান সরকার তাকে জেল থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। তার পর উনাকে নিয়ে আমরা মিছিল করেছি পুরা শহরে। বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে সব আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।”
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী জয়ন্তী রায়, ছেলে অমিতাভ রায় ও মেয়ে অনিন্দিতা রায়।
জয়ন্তী রায় বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে পৈত্রিক বাড়িতে সমাধিত করা হবে অজয় রায়কে।
“তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুর পর তিনি বাংলার মাটির সঙ্গে মিশে যেতে চান।”
আপনার মন্তব্য