২৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:২৭
গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) অর্জিত হয়েছে, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর আগের হিসাবের চেয়ে বেশি। আগের হিসাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলেছিলেন ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। তখন তারা নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) তথ্য বিশ্লেষণ করে সে তথ্য জানিয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, শেষ পর্য়ন্ত চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ হয়েছে। এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছিল বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের শুরুতে বাজেট ঘোষণার সময় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল।
নয় মাসে অর্থনীতির গতি প্রকৃতি দেখে এডিবি ও বিশ্ব ব্যাংক বলেছিল, এবার বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। প্রাক্কলনে লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে যাওয়ার চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার।
তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেও মাথাপিছু আয় কমেছে, যা প্রাক্কলন থেকে এক ডলার কম, অর্থাৎ ১ হাজার ৪৬৫ ডলার। মাথাপিছু আয় কমার কারণ হিসেবে ডলারের দাম বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বদলে যাওয়ায় গত মে মাসের প্রাক্কলনের সময় থেকে চূড়ান্ত হিসাবের মাথাপিছু আয় কমেছে।
গত মে মাসে প্রতি ডলারের বিনিময়ে যেখানে ৭৮ টাকা ১৫ পয়সা পাওয়া যেত, চূড়ান্ত হিসাবের সময় তা হয় ৭৮ টাকা ২৭ পয়সা।
চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৩২ হাজার কেটি টাকা বা ২২১ বিলিয়ন ডলার। বিবিএস এর প্রাক্কলনে চলতি অর্থবছর জিডিপির আকার ১৭ লাখ ২৯ হাজার কেটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলা হয়েছিল।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জিডিপি বৃদ্ধির বিষয়টি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি মিলনায়তনে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় একনেক বৈঠক।
আপনার মন্তব্য