২৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:৪৫
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর আলোচনায় আসা ‘নব্য জেএমবি’র শীর্ষ নেতা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থায় পুলিশ ও র্যাব। পুলিশ বলছে ওই জঙ্গিগোষ্ঠির শীর্ষনেতা তামিম আহমেদ চৌধুরী, অপরদিকে এলিট ফোর্স র্যাব সারোয়ার জাহান ওরফে আব্দুর রহমান ওরফে আয়নালকে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা হিসেবে দাবি করছে। এদিকে, র্যাবের পক্ষ থেকে যাকে শীর্ষনেতা বলে দাবি করা হচ্ছে পুলিশ তাকে শীর্ষ নেতা নয় বলছে ‘তৃতীয় সারির নেতা’।
র্যাব-পুলিশের এ মতভিন্নতার শুরু মূলত ৮ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ার এক বাড়িতে র্যাবের অভিযানের সময় পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে মারা যাওয়া সারোয়ার জাহানের মৃত্যু পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন থেকে। ওই ঘটনার ১৩ দিন পর র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম সারোয়ার জাহান। তিনি নব্য জেএমবির শীর্ষনেতা। এদিকে, বুধবার (২৬ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন আশুলিয়ায় র্যাবের অভিযানে ছাদ থেকে লাফিয়ে নিহত আব্দুর রহমান (সাংগঠনিক নাম) ওরফে সারোয়ার জাহান নব্য জেএমবির তৃতীয় সারির নেতা ছিল।
এদিকে, ইতালিয়ান নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ ও র্যাবের দুই ধরনের বক্তব্য লক্ষণীয়। র্যাবের ডিজি বলছেন, তাভেল্লা হত্যার সাথে নব্য জেএমবির নেতারা জড়িত। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন করে মনিরুল ইসলাম বলেছেন, আমরা তদন্ত করে দেখেছি, এটা সঙ্গে বিএনপি নেতা কাইয়ুম সাহেব ও তার ভাইরা জড়িত।
এর আগে, গত ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের একটি বাড়িতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে নিহত তামিম আহমেদ চৌধুরীকে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা দাবি করেছিল পুলিশ। এরও আগে তাকে ধরিয়ে দিতে পুরষ্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।
জঙ্গি এ সংগঠনটির শীর্ষ নেতা নিয়ে পুলিশ ও র্যাবের এ বক্তব্যের বাইরেও আরও কিছু মতভিন্নতা লক্ষণীয়। র্যাব মহাপরিচালক তার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন তামিমের সঙ্গে সারোয়ার জাহান ওরফে আব্দুর রহমান বার্তা পাঠিয়ে যে যোগাযোগ করেছিলেন, তা বাড়ি ঘেরাও হওয়ার পর। তাদের বার্তা আদান প্রদানের টেক্সট মেসেজও র্যাবের সংবাদ সম্মেলনেও দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল বলেন, “তামিম চৌধুরীকে ঘিরে ফেলা হয় সকাল ৬টার দিকে। কাউন্টার টেরোরিজমের প্রথম টিমটি যায় ৬টা ১৫ কিংবা ২০ মিনিটে। তার আগে তাকে ঘিরে ফেলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অন্য কোনো সংস্থা বা অন্য কোনো ইউনিট ঘিরে থাকতে পারে।”
অভিযান শুরুর পর সারোয়ার বা রহমান যোগাযোগের সুযোগ খুব-একটা পায়নি দাবি করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “যতটুকু করেছে তানভীর কাদেরীর সাথে করেছে এবং মেজর জাহিদের সাথে করেছে বলে আমাদের কাছে ডকুমেন্টারি কিছু রয়েছে।”
তামিম চৌধুরীর পর কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ঢাকার মিরপুরের রূপনগরে মেজর জাহিদ এবং আজিমপুরে তানভীর কাদরী নিহত হন।
র্যাব যাকে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা হিসেবে দাবি করছে পুলিশ তাকে বলছে তৃতীয় সারির নেতা। এবং এ সম্পর্কে মনিরুল বলেন, ‘‘সারোয়ার জাহান-ই প্রধান ছিলেন, এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ আমাদের (হাতে) নেই। তাকে ডিএনএ টেস্ট করে যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায়, সেটি আমরা বিবেচনা করে দেখব।”
এদিকে, সারোয়ার জাহানকে ওই জঙ্গি সংগঠনের তৃতীয় সারির নেতা উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন নব্য জেএমবির প্রধান হিসাবে ‘সেকেন্ড ক্যাটাগরির’ দুই-একজন রয়েছে, তারাই এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের মধ্যে সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর জিয়া নেই বলেও মন্তব্য তার।
“মেজর জিয়ার সাথে এই গ্রুপটির সম্পর্ক নেই। মেজর জিয়া আনসার আল ইসলাম এর সাথে জড়িত।”
আনসার আল ইসলাম নিষিদ্ধ করতে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ। নব্য জেএমবির বিষয়েও একই চিন্তা ভাবনা চলছে বলে জানান মনিরুল।
আপনার মন্তব্য