সিলেটটুডে ডেস্ক

০৪ নভেম্বর, ২০১৬ ১৬:৪৯

মন্ত্রী ছায়েদুলের পদত্যাগ দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে প্রথমে হিন্দুদের মন্দিরে হামলা, বাড়িঘর লুট, নির্যাতন এবং ততপরবর্তী সময়ে ওই এলাকার সাংসদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের বক্তব্যের পর ফের হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের এক কর্মসূচিতে মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোয়াজ্জেম হোসেনের অপসারণ চেয়েছেন হিন্দুপ্রধান বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। মানববন্ধনের পর বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল বলেন, “ঘটনা ঘটার কয়েক দিন পরে মন্ত্রী ছায়েদুল হক এলাকায় গিয়েছেন। তিনি যাওয়ার পরেও সেখানে আবার হামলা হয়েছে। এতেই বোঝা যায় তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।”

এই ঘটনায় তিনি মন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগ দাবি করলে উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সমস্বরে তার প্রতি সমর্থন জানান।

তাপস বলেন, “নাসিরনগরের ইউএনও চৌধুরী মোয়াজ্জেম ওইদিন সমাবেশের অনুমতি না দিলে এই হামলার ঘটনা ঘটত না। আমরা ইউএনওর অপসারণেরও দাবি জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, ফেসবুকে রসরাজ দাস নামের এক হিন্দু যুবকের ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ ওঠেছে। শুক্রবার রসরাস ফেসবুকে পোস্ট করলে ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। যদিও রসরাস তার একাউন্ট হ্যাক হয়েছে দাবি করেছেন।

নাসিরনগরের ইউএনও মোয়াজ্জেম ও ওসি আবদুল কাদেরের উপস্থিতিতে একটি সমাবেশে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের পর ওই হামলা হয়। ওই ঘটনার পর সহস্রাধিক লোককে আসামি করে দুটি মামলা হয়েছে; গঠন করা হয়েছে তিনটি তদন্ত কমিটি।

মন্দিরসহ বাড়িঘরে হামলার পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই শুক্রবার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘরে আবারও আগুন দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে মিলিত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২০টি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ, জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট, জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, বাংলাদেশ মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদ, জাগো হিন্দু পরিষদের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীও বিক্ষোভে অংশ নেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত