০৮ নভেম্বর, ২০১৬ ০২:৪৭
ঢাকা কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের প্রায় আড়াইশ’ ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়েছে পড়েছে। রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার নারিন্দার মনির হোসেন লেনে অবস্থিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এই মহাবিদ্যালয়টি সরকারি এক আদেশে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে শঙ্কিত হয়েছে পড়েছে মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী ও পাঠরত শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেন, হঠাৎ করে সরকারি এমন সিদ্ধান্তে তারা অসহায় বোধ করছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে চায়। কিন্তু কলেজটি ভেঙে ফেলা হলে তারা যাবে কোথায়? ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম।
কলেজটির শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এমপিওভুক্ত আমাদের এই কলেজটি ২০০৩ সালে স্থাপিত হয়েছে। ওই সময় থেকেই সরকারি একটি পরিত্যক্ত জায়গায় এর কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে আসছে। কলেজটিতে এ মুহূর্তে এসএসসি ও এইচএসসি পাঠ্যক্রমের প্রায় আড়াইশ' ছাত্রছাত্রী পাঠরত আছে। এদিকে প্রতিষ্ঠানটি-সংলগ্ন জায়গায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আছে।
কিছুদিন আগে সরকারি এক অধ্যাদেশে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকতে পারবে না। এর ফলে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এমন সিদ্ধান্তে আমরা শঙ্কিত। হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে ফেলা হলে এইসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হবে। অনিশ্চিত হয়ে পড়বে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন।
তিনি আরো বলেন, সরকারি আদেশকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তবে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তর করতে একটু সময়ের প্রয়োজন। সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া সময়টি খুবই অপ্রতুল। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারি নিয়ে আমরা যাবো কোথায়? এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরের জন্য যথাযথ সময়ের জোর দাবি করছি।
এ বিষয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ মো. আবু সাঈদ বলেন, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থায়ীভাবে একটি জায়গা দেয়ার জন্য আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সভাপতি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। কিন্তু আমরা তো সরকারি নির্দেশের বাইরে যেতে পারবো না। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল চাইলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলা হচ্ছে বলে শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানি না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমি কথা বলবো।
আপনার মন্তব্য