০৮ নভেম্বর, ২০১৬ ১১:৪৩
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার রসরাজ দাস অবশেষে আইনজীবী পেয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয় আইনজীবী তার পক্ষে দাঁড়াবার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে রিমান্ডের আবেদনের সময়কালে রসরাজের পক্ষে আদালতে কোন আইনজীবী দাঁড়ান নি। সে সময় তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।
এর আগে ৬ নভেম্বর রসরাজকে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি।
সোমবার ওই ছয় আইনজীবীর মধ্যে একজন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাসির মিয়া আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপর পাঁচ আইনজীবী হলেন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ জামাল, অ্যাডভোকেট কাজী মাসুদ আহমেদ, অ্যাডভোকেট লিটন দেব, অ্যাডভোকেট অসীম বর্ধন ও অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাসির মিয়া বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর থেকে রসরাজ আইনজীবীদের কাছ থেকে কোনও ধরণের আইনি সহায়তা পাচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই আমার রসরাজের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।’
২৯ অক্টোবর শনিবার তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় রসরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর ফেসবুকে রসরাজ দাস নামের এক যুবক ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর এক পোস্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনার জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে হেফাজতে ইসলাম ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত নামের ধর্মভিত্তিক দুই সংগঠন, যেখানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত থেকেও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ উঠে।
ওই সমাবেশে স্থানীয় ইউএনও মোয়াজ্জেম হোসেন ও ওসি আব্দুল কাদের উপস্থিত থেকেও বক্তব্য রাখেন। ইউএনও মোয়াজ্জেমকে ইতোমধ্যেই বদলি করা হয়েছে, আর ওসিকে বদলি করার দিনই স্থানীয় সাংসদ ও মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের সুপারিশে বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়।
রসরাজ দাসের ফেসবুক পোস্ট ও গ্রেপ্তারের দুই দিন পর সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে নাসিরনগরের ১০টি মন্দির ও শতাধিক হিন্দু বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন।
রসরাজ দাস গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুকে অপর এক পোস্টে জানিয়েছিলেন তিনি এমন ধর্ম অবমাননাকর পোস্ট দেন নি।
আপনার মন্তব্য