সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ নভেম্বর, ২০১৬ ০১:৩৫

সাঁওতাল উচ্ছেদের ঘটনা গণহত্যার শামিল: সুলতানা কামাল

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের ঘটনা ‘গণহত্যার শামিল’ উল্লেখ করে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘গাইবান্ধার বাগদা ফার্ম এলাকায় যা ঘটেছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষাও আমাদের নেই। এ রকম একটির পর একটি নিষ্ঠুর, অমানুষিক, অমানবিক ঘটনা দেখে আমাদের শিউরে ওঠা ছাড়া কিছুই করার থাকছে না।’

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গাইবান্ধার সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয়  পৃষ্ঠপোষকতায় সাঁওতাল হত্যাকাণ্ড ও তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সরকারকে উদ্দেশ করে সুলতানা কামাল বলেন, ‘একটি জনগোষ্ঠীকে তাদের জায়গা থেকে উচ্ছেদ করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারা হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগসহ সব রকমের উপায় ব্যবহার করেছে, যা গণহত্যার সংজ্ঞার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আর সরকারই ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে, এ দেশে আদিবাসী বলে কিছু নেই। এখন তারা নিজেদের কথার সত্যতা প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। যেভাবেই হোক তারা দেশটাকে আদিবাসীহীন করতে চাচ্ছে।’

তিনি সাঁওতালদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘যদি কোথাও কোনো আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে, তবে সেটা মোকাবেলার জন্য তো পুলিশ রয়েছে। গত কয়েক বছরে যে কোনো হামলার একটি নতুন আলামত দেখা যাচ্ছে, যেটা পাকিস্তান আমলে ঘটেছিল। আমরা নাসিরনগরে দেখেছি এবং গাইবান্ধায় দেখলাম। পুলিশ তাদের সঙ্গে অক্সিলারি (সাহায্যকারী) বাহিনী হিসেবে থাকছে। যেভাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সৈন্যের সঙ্গে আলবদর ও রাজাকার বাহিনী থাকত।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং লিখিত বক্তব্যে আদিবাসীদের হত্যার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিরাপত্তার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও আদিবাসীদের অধিকার আন্দোলনের নেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সরেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। আগামী রোববার বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত