১৬ নভেম্বর, ২০১৬ ১৪:০৫
স্বাধীনতাবিরোধী মোনায়েম খানের বাড়ির রাস্তার পাশে সবুজায়নের জন্য বরাদ্দকৃত ১৯৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫০ ফুট প্রস্থের জায়গা দখলে নিতে পারবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) এ আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
একইসঙ্গে দখলকৃত ওই জায়গা থেকে মোনায়েম খানের পরিবারকে উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী শাহজাদা আল আমিন কবির সোহেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন মোতাহার হোসেন সাজু।
আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, "আদালতের আদেশ অনুসারে মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) মোনায়েম খানের পরিবারের এক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে যৌথ জরিপ হয়। এতে দেখা যায়, ১৯৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫০ ফুট প্রস্থের জমি দখলে রেখেছিলেন মোনায়েম খানের পরিবারের সদস্যরা।"
আদালতের আজকের আদেশের পর সিটি করপোরেশনের ওই জায়গা দখলে নিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানান তিনি।
বনানীর ব্লক-এ ১১০ নম্বরের পাঁচ বিঘার ১৫ ছটাক প্লটটি ১৯৬৬ সালে ডিআইটি থেকে বরাদ্দ পান মোনায়েম খান। পরে ২০০৯ সালে তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশন এটিকে তাদের জায়গা উল্লেখ করে চিঠি দেন। ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন মোনায়েম খানের ছেলে কামরুজ্জামান।
ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা জারি করেন। এ অবস্থায় গত ৩ নভেম্বর বিকালে বনানীর ২৭ নম্বর রোডে ১১০ নম্বর বাড়িতে ডিএনসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান শরীফ ও মো. সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
ডিএনসিসি’র এ উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আসেন মোনায়েম খানের ছেলে মো.কামারুজ্জামান খান। গত ০৭ নভেম্বর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও মোনায়েম খানের বাড়ি (বনানীর ২৭ নম্বর রোডে ১১০ নম্বর বাড়ি) কেন উচ্ছেদ করা হলো তার ব্যাখ্যা জানতে চান হাইকোর্ট। সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে এ ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
সে অনুসারে ডিএনসিসি’র দেওয়া ব্যাখ্যার ওপর গত রোববারের (১৩ নভেম্বর) শুনানি নিয়ে যৌথ জরিপের আদেশ দেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) এ যৌথ জরিপের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপনের পর আজ বুধবার আদালত এ আদেশ দেন।
আপনার মন্তব্য