১৬ নভেম্বর, ২০১৬ ১৬:২১
দুর্নীতির মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জন্য জামিন পেয়েছেন কক্সবাজারের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। রায়ের বিরুদ্ধে তার আপীলের প্রেক্ষিতে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। একই আদেশে বদিকে দেয়া কারাদণ্ডের সাথে ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড স্থগিত করেছেন হাইকোর্টের এ বিচারপতি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় গত ২ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত বদিকে ৩ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। এছাড়াও অনাদায়ে আরো তিনমাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয় এ বিশেষ জজ আদালত। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ার এ ঘটনা বাংলাদেশে বিরল বলেও অভিহিত করেন ওই আদালত।
তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার হাইকোর্টে আপিল করেন বদির পক্ষে তার আইনজীবীরা। বুধবার এ আপিল শুনানী শেষে বদির জামিন মঞ্জুর করে অর্থদন্ডের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেন আদালত।
এ সময় সাংসদ বদির পক্ষে শুনানি করেন হবিগঞ্জের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী। তার সঙ্গে ছিলেন নাসরিন সিদ্দিকা লীনা। অপরদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
নাসরিন সিদ্দিকা লীনা আদেশের পর বলেন, “শুনানিতে আমরা বলেছি, এর আগেও তিনি (বদি) আদালতের কাজে কোনো অশ্রদ্ধা দেখাননি। জামিন পেলেও তিনি আইন মেনে চলবেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন।” নিম্ন আদালতে রায়ের পর থেকে কারাগারে থাকা বদির মুক্তিতে এখন আর কোনো বাধা নেই বলে তার আইনজীবীর জানান।
দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার রমনা থানায় সাংসদ বদীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জিল মোর্শেদ ২০১৫ সালের ৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযোগপত্রে বদির ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪২ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়। বলা হয়, তিনি দুদকের কাছে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। বিশেষ জজ আদালতের রায়ে অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ থেকে আদালত বদিকে খালাস দিলেও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাজার আদেশ দেয়।
আপনার মন্তব্য